নিজস্ব সংবাদদাতাঃ হাওড়াঃ হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের জয়নগরে বৈদুতিক চুল্লির দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। গ্রামে ভরসা ছিল একটি কাঠের চুল্লি। যাতে মৃতদেহ দাহ করতে সারা বছরই সমস্যা হতো। বর্ষায় সেই সমস্যা দ্বিগুণ হয়ে যেতো। বাধ্য হয়েই বর্ষার সময়ে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে উলুবেড়িয়ার ইলেক্ট্রিক চুল্লিতে মৃতদেহ নিয়ে যেতে হতো গ্রামবাসীদের। সেই কথা মাথায় রেখে ও দীর্ঘদিনের দাবি মেনেই উদয়নারায়ণপুরের কানুপাট মনসুকা গ্রাম পঞ্চায়েতের জয়নগরে দামোদর নদীর ধারে ডাবল ফার্নেস বৈদ্যুতিক চুল্লি তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

রবিবার সেই চুল্লির শিলান্যাস করলেন স্থানীয় বিধায়ক সমীর পাঁজা। ছিলেন অন্য বিশিষ্টরা। এই বৈদ্যুতিক চুল্লি তৈরি করবে কেএমডিএ। এমনটাই প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। যাতে ব্যয় হবে প্রায় ২ কোটি ৯৫ লক্ষ টাকা। এই চুল্লি তৈরি হলে উদয়নারায়ণপুর ছাড়াও উপকৃত হবেন, ডোমজুড়, জগৎবল্লভপুর, আমতা, খানাকুল, আরামবাগ-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ। শিলান্যাস অনুষ্ঠানে এসে বিধায়ক বলেন, ‘এলাকার মানুষের দাবি মেনে এই বৈদ্যুতিক চুল্লি তৈরি করা হচ্ছে। কিছুটা জমির সমস্যা ছিল। সেই জমির সমস্যা মিটে যাওয়ায় বৈদ্যুতিক চুল্লিটি তৈরি হচ্ছে। টেন্ডার ডাকা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ৮-১০ মাসের মধ্যে বৈদ্যুতিক চুল্লিটি নির্মিত হবে।’

এই বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা অমিত মণ্ডল বলেন, ‘হাওড়া জেলার প্রান্তিক এলাকা উদয়নারায়ণপুরের উন্নয়নে বিধায়ক সমীর পাঁজার অনেক অবদান রয়েছে। অনেক উন্নয়ন করেছেন। এবার উদয়নারায়ণপুরের এই উন্নয়নের মুকুটে নতুন পালক দূষণহীন ডাবল ফার্নেস বিশিষ্ট বৈদ্যুতিক চুল্লি l দামোদর তীরবর্তী এলাকায় এটা হওয়ায় আমাদের অনেক উপকার হবে। বৈদ্যুতিক চুল্লি না থাকায় নানা ধরনের সমস্যা হয়। বিশেষ করে বন্যার সময়ে। এই চুল্লি তৈরি হলে দীর্ঘদিনের সমস্যা মিটবে।’ উল্লেখ্য, ডাবল ফার্নেস মানে, একই সঙ্গে দুটি চুল্লি। কিন্তু একসঙ্গে দুটিতে দাহ করা যাবে না। একটি খারাপ হলে অপর চুল্লিটিতে দাহ করা যাবে। এই বিশেষ চুল্লির ফলে দূষণ কম হবে।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here









