"INDIAN PRIME TIME" MSME Registration No: UDYAM - WB - 10 - 0189506

"INDIAN PRIME TIME" MSME Registration No: UDYAM - WB - 10 - 0189506

মানুষের কাঁধে চেপে প্রথম চারচাকা গাড়ি উঠলো পাহাড়ে

Share

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ আলিপুরদুয়ারঃ বহু যুগ আগে মানুষ সভ্যতার গতি আনতে কাঠের গুঁড়ি থেকে চাকা আবিষ্কার করেছিল। যাতে কম সময় চাকার সাহায্যে এক জায়গা থেকে অন্যত্র যাওয়া যায়। কিন্তু এবার সেই চাকাই মানুষের কাঁধে ভর করে বসে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনই একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে। ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, বাসিন্দারা একটি গাড়ি কাঁধে নিয়ে পাহাড়ি পাকদণ্ডি পথ পেরোচ্ছেন।

ঘটনাটি আলিপুরদুয়ারের বক্সা পাহাড়ের দুর্গম জনপদ চুনাভাটি। সেখানে পৌঁছতে হলে প্রায় ২ হাজার ৭০০ ফুট উচ্চতার পাহাড়ি পাকদণ্ডি পথ পেরোতে হয়। চুনাভাটি থেকে ভালচেনের দূরত্ব তিন কিলোমিটার। তার পরে সান্তালাবাড়ি যেতে আরও দুই কিমি পথ পেরোতে হয়। এই দুই কিমি পথ ওখানকার বাসিন্দাদের কাছে বিভীষিকা। কোথাও কোথাও চলতে গিয়ে হামাগুড়ি দিতে হয়। ওই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে ওঠা অসম্ভব। ফলে যে কোনও প্রয়োজনে পাঁচ কিমি পথ হেঁটে সান্তালাবাড়ি পর্যন্ত আসতে হতো তাঁদের। এই দৈনন্দিন কষ্ট লাঘব করতে সেখানকার বাসিন্দারা সম্প্রতি চাঁদা তুলে ৯০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গাড়ি কিনেছেন। জয়গাঁ থেকে গাড়িটি কিনে তাঁরা সেটিতে চেপে সান্তালাবাড়ি আসেন।

তার পরে ওই ‘ভয়ঙ্কর’ পাকদণ্ডি পথ পেরোতে সেটির পার্টস খুলে কাঁধে চাপিয়ে নিয়ে যান ডালচেনে। সেখানে পার্টসগুলি আবার জুড়ে গাড়িটি নিজেরাই তৈরি করে নেন। এরপরে তাতে চড়েই রওনা হন নিজেদের গ্রামে। এখন থেকে চুনাভাটি থেকে ডালচেন পর্যন্ত তিন কিমি রাস্তায় চলবে ওই গাড়ি। সেটি ব্যবহার করা হবে রোগী, পড়ুয়া এবং আপদকালীন কোনও অবস্থায়। গাড়িতে চড়ে ডালচেন পৌঁছে অবশ্য সেই দুই কিমি ‘ভয়ঙ্কর’ পথ পেরোতেই হবে। তবু বাসিন্দারা মনে করছেন, ‘তিন কিমির যন্ত্রণা তো লাঘব হলো!’ চুনাভাটির বাসিন্দা ইসমাইল ডুকপা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা সমস্যার কথা জানিয়ে আসছিলাম। কিন্তু আমাদের কথা কেউ কানে তোলেনি। তাই নিজেদের পথ নিজেরাই বেছে নিয়েছি।’


এলাকাটি রাজাভাতখাওয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন। প্রধান সোনম জংমো ডুকপা নিজেই সেখানকার বাসিন্দা। তিনি বলেন, ‘গ্রামবাসীদের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। এর বেশি আর কী-ই বা বলতে পারি?’ যদিও চুনাভাটি থেকে ডালচেন পর্যন্ত তিন কিমি রাস্তা পাহাড় কেটে তৈরি করেছেন গ্রামবাসীরা। সেই জমি কাগজে-কলমে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের সংরক্ষিত জঙ্গলের মধ্যে পড়ে। তাই সেখানে বেআইনি ভাবে পাহাড় কাটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা কুমার বিমল বলেন, ‘আমরা খবরটা পেয়েছি। সব দিক বিচার করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’


DISCLAIMER: This channel does not promote any violent, Harmful or illegal activities. All content provided by this channel is meant for an educational purpose only.

Share this article

Facebook
Twitter X
WhatsApp
Telegram
 
September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930