নিজস্ব সংবাদদাতাঃ হাওড়াঃ রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই রং বদল শুরু হাওড়া শহরে। তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের সমস্ত সরকারি ভবন, ফুটপাথের রেলিং ও বিভিন্ন সরকারি সম্পত্তিতে নীল-সাদা রং দেখতে পাওয়া যেত। এখন সেই জায়গায় গেরুয়া রঙের ব্যবহার শুরু হয়েছে। জানা গেছে, হাওড়ার বেলেপোলের কাছে অবস্থিত স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি থেকে ডুমুরজলা স্টেডিয়ামের দিকে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার ধারে ফুটপাথের লোহার রেলিংয়ে নীল-সাদা তুলে দিয়ে নতুন করে গেরুয়া-সাদা রং করা হচ্ছে। রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করার সময় সেটা বহু মানুষেরই নজর কাড়ছে।

তবে এই রং বদলে শহরের নান্দনিক সৌন্দর্য কতটা বাড়ছে, তা নিয়ে অবশ্য ভিন্নমত উঠে আসছে। কারও মতে, আগের থেকে গেরুয়া-সাদা রং দেখতে ভালোই লাগছে। কেউ আবার বলছেন, বহু দিন বাদে আবার নতুন করে রং হচ্ছে, এতেই তাঁরা খুশি। বিশেষ করে সন্ধ্যার পরে গেরুয়া রঙের রেলিং দেখতে বেশ আকর্ষণীয় লাগছে। বেলেপোল এলাকার বাসিন্দা অরূপ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘অনেক দিন ধরে রেলিংগুলোর অবস্থা খারাপ ছিল। নতুন করে রং হওয়ায় রাস্তার সৌন্দর্য বেড়েছে। রং নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমি চাই, শহর পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর দেখাক।’

ডুমুরজলার ব্যবসায়ী সঞ্জয় দাসের বক্তব্য, ‘আগে নীল-সাদা ছিল, এখন গেরুয়া হচ্ছে। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও বদলায়। তবে রং যা-ই হোক, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যদি শহরকে সুন্দর রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাকে অবশ্যই স্বাগত জানাব।’ কেউ আবার বলছেন, গেরুয়া রং ভারতীয় ঐতিহ্যের প্রতীক। তাই গেরুয়া রংয়ে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। এক প্রবীণ বাসিন্দার কথায়, ‘গেরুয়া ত্যাগ, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের প্রতীক। এই রঙের মধ্যে একটা আলাদা আবেদন রয়েছে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় এই রঙের ব্যবহার দেখতে ভালো লাগছে।’
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
অন্যদিকে, শিবপুরের গৃহবধূ শর্মিলা গোস্বামীর মতে, ‘সরকারি সম্পত্তিতে রং পরিবর্তনের চেয়ে রাস্তা সংস্কার, নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতিসাধন করা অনেক বেশি জরুরি। নতুন করে রং না করে হাওড়া শহরের মানুষ যাতে ঠিকঠাক নাগরিক পরিষেবা পান, সে দিকে বেশি নজর দিলে মানুষের উপকার হবে।’ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ধাপে ধাপে শহরের বিভিন্ন সরকারি ভবন, সরকারি সম্পত্তি এবং রাস্তার রেলিংয়ে গেরুয়া প্রলেপ পড়বে। তার জন্য পুরোনো রং তুলে দেওয়া হবে। আসন্ন পুজোর আগেই এই কাজ সম্পূর্ণ করে ফেলতে চাইছে প্রশাসন।










