নিজস্ব সংবাদদাতাঃ বাঁকুড়াঃ যেসব আদিবাসী পড়ুয়া হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করেন, তাঁদের থাকাখাওয়ার ভাতা বাড়াল রাজ্য সরকার। আগে তাঁরা মাসে ১৮০০ টাকা পেতেন। এ বার তা বাড়িয়ে ৩৩০০ টাকা করা হলো। মঙ্গলবার বাঁকুড়ায় হুল দিবসের সরকারি অনুষ্ঠান থেকে এই ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জয় জোহার প্রকল্পে বয়স্ক আদিবাসী মহিলারা মাসে যে ১০০০ টাকা ভাতা পান, তা-ও ৫০০ টাকা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদকে গত তিন বছরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক টাকাও দেননি বলে অভিযোগ তুলেছেন শুভেন্দু। তিনি জানান, তাঁর সরকার জঙ্গলমহলের ৭৫টি ব্লকের উন্নয়নের জন্য বাজেটে ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। মুকুটমণিপুরের সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শুনলে অবাক হবেন, ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষে মাত্র ছ’কোটি টাকার কাজ হয়েছে জঙ্গলমহলের ৭৫টা ব্লকে। আমরা এ বারে ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি বাজেটে। এই জঙ্গলমহলের ৭৫টা ব্লকে ব্যাপক উন্নয়ন হবে। স্বাস্থ্যকেন্দ্র সাজাব। জল পৌঁছে দেব। কমিউনিটি হল বানাব। আমাদের বৃহত্তর পরিকল্পনা আছে। এক দিকে জামশেদপুর, ঝাড়খণ্ড শিল্পনগরী আর এক দিকে দুর্গাপুর শিল্পনগরী। এই দু’টোকে ২০০ কিলোমিটারের রাস্তায় যুক্ত করা যায়। এই সমগ্র এলাকা, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়াকে আগামী দিনে আমরা উন্নয়নের চরম শিখরে নিয়ে যাব।’

মুকুটমণিপুরকেও আদর্শ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তর, আদিবাসীকল্যাণ দপ্তর আর পর্যটন দপ্তর মিলে মুকুটমণিপুরকে আদর্শ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলবে। এখানে পরিকাঠামোগত অনেক খামতি রয়েছে। তা দেখা হবে। আমাদের ১৭ জন আদিবাসী বিধায়ক রয়েছেন। এ বার আমরা ঋণশোধ করব।’ বুধবার অন্নপূর্ণ যোজনায় সারা রাজ্যের এক কোটি ২০ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তিন হাজার টাকা জমা পড়বে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
তিনি বলেন, ‘এই রাজ্যে এক কোটি ৫১ লক্ষ জন অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন করেছিলেন। আমরা যাচাই করে প্রায় এক কোটি ২০ লক্ষের বেশি দিদি, বোনের নাম নথিবদ্ধ করতে পেরেছি। আগামিকাল পয়লা জুলাই আমরা ৩,০০০ করে টাকা তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠাব।’ ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র দেওয়ার বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার প্রতিটি ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্রের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। দোষী সাব্যস্ত হলে যিনি শংসাপত্র দিয়েছিলেন, যিনি পেয়েছেন, দু’জনকেই জেলে পাঠানো হবে।’ তিনি বিগত সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, ‘আগে চুক্তিতে চাকরি দেওয়া হত। সে ক্ষেত্রে তফসিলি জাতি ও জনজাতিদের সংরক্ষণের নীতি মানা হয়নি।’










