রায়া দাসঃ কলকাতাঃ দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা । সময়টা প্রায় তিন দশেকেরও বেশী হবে। যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেত্রী, সেই তখন। নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর থেকে শুরু করে রিজওয়ানুর, একের পর এক মামলায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নেত্রীর পাশে থেকেছেন। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর, সে সারদা-নারদা হোক, কিংবা নিয়োগ দুর্নীতি কিংবা এসআইআর! বরাবরই যুক্তিবাণে প্রতিপক্ষকে বিদ্ধ করেছিলেন। আর এখন তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত। ঘরে-বাইরে নানা ইস্যুতে একেবারে কুপোকাত। একের পর এক মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ফাসছে। হাজারও সমস্যার মধ্যে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলেরই বিধায়কদের সই জাল মামলা। সেই মামলাতেও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় লড়ছিলেন। কিন্তু এবার সরে দাঁড়ালেন। এমনকি তৃণমূলের সমস্ত মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। কিন্তু কেন? কল্যাণ নিজেই জানালেন সে কথা।

আজ তৃণমূল, দলটার যা অবস্থা, তাতে অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে প্রথম থেকেই অভিষেক। বিধানসভার গণ্ডি পেরিয়ে সংসদও হাতছাড়া হয়েছে। সমালোচকদের কথায়, তৃণমূল দলটাই উঠে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি। যে কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন মমতা, সেই কংগ্রেসেরই শরণাপন্ন হতে হয়েছে তাঁকে। অভিষেকের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন দলের বিধায়ক-সাংসদরা। কিন্তু তখনও কল্যাণ এক কাট্টা লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন, অভিষেক-মমতার হয়ে! গত মঙ্গলবারও তিনি বিক্ষুব্ধ সাংসদদের উদ্দেশ্যে বলতে গিয়ে অভিষেকের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সে হেন অভিষেকের থেকে এহেন আচরণ মেনে নিতে পারেননি বর্ষীয়ান আইনজীবী।

ঘটনাপ্রবাহ উল্লেখ করতে গিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি চেম্বারে বসে রয়েছি। সাড়ে এগারোটার সময়ে একজনকে পাঠিয়েছে। তিনি আগে সঞ্জয় বসুর সঙ্গে কাজ করতেন। তিনি এসে বললেন, একটা রিট পিটিশন ফাইল হয়েছে, সার্চ নিয়ে। আমি তাঁদের বলি, তোমরা রিট পিটিশন ফাইল করলে সার্চ, অথচ এটাই তো আমার সাবজেক্ট ম্যাটার অফ্ ক্রিমিন্যাল ডিভিশন। কেন একবার জানালে না রিট পিটিশন ফাইল করেছ।” কল্যাণ ববন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবী, তখন তাঁকে জানানো হয়, “ওপর থেকে ইনস্ট্রাকশন এসেছে। কিশোর দত্ত করছেন। আমি তখন বললাম, তাহলে আমি আর লড়ব না।”
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
সই-মামলা প্রসঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সিআইডি অভিষেককে ডেকে পাঠিয়েছে, নোটিস দিয়েছে। সেটা ক্রিমিন্যাল ডিভিশনে মামলা ফাইল হয়েছে। শুক্রবার ভ্যাকেশন বেঞ্চে মামলাটা ছিল। ২২১। ২১৪-২১৫ পর্যন্ত মামলা শোনা হয়। জজ সাহেব আমাকে বলেছিলেন, বুধবার মামলাটা থাকবে। কাল মামলা ছিল না তালিকায়। মঙ্গলবার একাধিক জায়গায় সার্চ হয়েছে। দিদির অফিসেও সার্চ হয়েছে, সেখানেও আমি উপস্থিত ছিলাম। একটু দেরি হয়েছে। কালকেও বিচারপতি কৌশিক চন্দের ঘরে মেনশন করে বললাম, ম্যাটারটা খুবই আর্জেন্ট। সার্চ হয়েছে। খুবই অসুবিধার মধ্যে রয়েছি। যেকোনো মুহূর্তে অ্যারেস্ট হয়ে যেতে পারে।”

তিনি বলেন, “আমাকে ডাস্টবিন হিসাবে ট্রিট করো না, ঘণ্টা খানেকের মধ্যে আমাকে বলে দাও, আমি করব কি করব না! কিছুই জানায়নি। সন্ধ্যায় পড়ে আবার রেডি হলাম। রাত সাড়ে বারোটার সময় আমার ছেলেকে টেক্সট করে বললো, আমাকে থাকার দরকার নেই, অয়ন ভট্টাচার্য থাকবেন।” কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক মন্তব্য, “আমি ৪৫ বছর ধরে প্র্যাকটিস করছি। কিন্তু একজন সিনিয়র আইনজীবীর সাথে কথা বলতে হয় কিভাবে? সেটা জানে না। এতো অ্যারোগ্যান্ট, এতো ঔদ্ধত্যের কি আছে! সময় থাকতে শিক্ষা পেল না। আমি তো ক্যামাক স্ট্রিটের কর্মী নই। আজকে বুঝতে হবে, ওর জন্য দলটার সর্বনাশ হয়েছে। এখনও যদি ওটা না বোঝে, তাহলে কিছু করার নেই। ওর হাবভাব, ওর ঔদ্ধত্য ওর জন্য আমাদের চোর চোর শুনতে হচ্ছে। ওর জন্য আমার জীবনহানির সংশয় তৈরী হয়েছে। দিদি অভিষেককে নিয়ে চললে চলুক, আমাকে দরকার নেই। আর অভিষেককে বাদ দিয়ে যদি দিদি চলে, আমি আছি।”
Sponsored Ads
Display Your Ads Here









