নিজস্ব সংবাদদাতাঃ মেদিনীপুরঃ ভোটের দিন এগিয়ে আসছে। তাই এই কাজে জেলায় যাঁরা যুক্ত থাকবেন তাঁদের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছিল। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার চার মহকুমাকেই এই প্রশিক্ষণ হয়। কিন্তু কোথাও দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় বিক্ষোভ দেখান ভোটকর্মীরা।

জানা গিয়েছে, তমলুক, কাঁথি, হলদিয়া এবং এগরা -এই চারটি মহকুমায় ১৫ টি কেন্দ্রে ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটকর্মীই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সেই সকাল থেকে প্রশিক্ষণ শুরু হয়ে চলে বিকেল পর্যন্ত। অভিযোগ কোথাও দুপুরের খাবারের কোনও আয়োজন করা হয়নি। এগরা, কাঁথি এবং হলদিয়ায় রীতিমতো প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বাইরে বেরিয়ে এসে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। তমলুকেও ভোটকর্মীরা এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সেখানে প্রশিক্ষণ নিতে আসা ভোটকর্মী সতীশ সাউ বলেন, ‘একটানা এত দীর্ঘ সময়ের প্রশিক্ষণের খুব একটা প্রয়োজন ছিল বলে মনে হয় না। যদি সময় কমানো যেত, তাহলে স্কুলগুলিতে পঠন-পাঠন কিছুটা হলেও চালু রাখা সম্ভব হতো।’
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
অন্যদিকে, মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি (এসটিইএ)-র পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক শম্ভু মান্না বলেন, ‘এ বারও ট্রেনিংয়ে লাঞ্চের ব্যবস্থা থাকব বলেই মনে করা হয়েছিল। কিন্তু সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত ট্রেনিং চললেও দুপুরের খাবারের কোনও ব্যবস্থা রাখা হয়নি, যা নিয়ে জেলাজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। যদি প্রশাসন আগে থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, তাহলে ট্রেনিংয়ের চিঠিতেই তা জানানো উচিত ছিল। অধিকাংশ ট্রেনিং সেন্টারের আশেপাশে এত সংখ্যক মানুষের খাবারের ব্যবস্থা নেই, ফলে ভোট কর্মীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আর এই সিদ্ধান্তকে ‘হঠকারী’ বলে উল্লেখ করে এর পরের প্রশিক্ষণের দিনগুলোতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন।

বুধবার হলদিয়ার বাসুদেবপুর ফার্স্ট গভর্নমেন্ট স্পনসর্ড হাইস্কুল এবং হলদিয়া গভর্নমেন্ট স্পনসর্ড বিবেকানন্দ বিদ্যাভবনের ঘটনা প্রশিক্ষণ শিবিরে বিক্ষোভ দেখান ভোটকর্মীরা। প্রিসাইডিং অফিসার এবং ফার্স্ট পোলিং অফিসারদের ট্রেনিং ছিল এখানে। বহুদূর থেকে ভোট কর্মীরা সময়ে ট্রেনিং সেন্টারে এসেছিলেন। কিন্তু টিফিন কিংবা লাঞ্চ কোনও কিছুর ব্যবস্থা না থাকায় তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এই পরিস্থিতির মধ্যে ট্রেনিং হয়েছে বলে সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে জেলাশাসক ইউনিস ঋষিন ইসমাইল বলেন, পারিশ্রমিকের সঙ্গে খাবারের টাকাও দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়টি আগাম জানানো হয়েছিল। জেলায় হলদিয়া ও এগরা থেকে অভিযোগ এসেছিল বিষয়টি তাঁদের বুঝিয়ে বলা হয়েছে।’
Sponsored Ads
Display Your Ads Here










