"INDIAN PRIME TIME" MSME Registration No: UDYAM - WB - 10 - 0189506

"INDIAN PRIME TIME" MSME Registration No: UDYAM - WB - 10 - 0189506

‘মাঙ্গলিক দোষ’ কাটাতে কলাগাছের সঙ্গে বিয়ে করার চিরাচরিত প্রথা চলে আসছে, জানেন কি এর শাস্ত্রীয় কারণ?

Share

মিনাক্ষী দাসঃ জ্যোতিষ শাস্ত্রে বহু মানুষের কুন্ডলীতেই নানা জন্ম দোষ থাকে। তার একটি হলো ‘মাঙ্গলিক দোষ’- যা অনেক পাত্র-পাত্রীর থেকে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে এই দোষ বিয়ে ভেঙে যাওয়ার কারণও হয়ে দাঁড়ায়। তাই আধুনিক যুগে দাঁড়িয়েও শাস্ত্র অনুযায়ী এই ‘মাঙ্গলিক দোষ’ কাটানোর জন্য বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগে বেনারসী পরে সাজগোজ করে কলাগাছের সাথে সাতপাক ঘোরে। নিষ্ঠা মেনে ওই গাছটির সাথে বিয়ের সব নিয়মই পালন করা হয়। আপাতদৃষ্টিতে এটি অদ্ভুত নিয়ম মনে হলেও, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কলাগাছের সাথে বিয়ের এই রীতি ভারতীয় সমাজে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জ্যোতিষশাস্ত্রের নিরিখে বিচার করলে, যখন কোনো জাতক বা জাতিকার কুষ্ঠীতে লগ্ন সাপেক্ষে প্রথম, চতুর্থ, সপ্তম, অষ্টম অথবা দ্বাদশ স্থানে ‘মঙ্গল’ গ্রহ অবস্থান করে, তাকেই ‘মাঙ্গলিক দোষ’ কিংবা ‘ভৌম দোষ’ বলা হয়। শাস্ত্র অনুযায়ী, মঙ্গল হলো তেজ, সাহস ও রাগের প্রতীক। কিন্তু এই গ্রহের অবস্থান অশুভ হয়, তবে বিবাহিত জীবনে কলহ, মানসিক দূরত্ব, এমনকি জীবনসঙ্গীর অকাল মৃত্যুর মতো চরম আশঙ্কার কথাও বলা হয়ে থাকে। বিশেষ করে যদি একজন মাঙ্গলিক ব্যক্তির সাথে একজন অমাঙ্গলিক ব্যক্তির বিয়ে হয়, তাহলে সেই দাম্পত্য সুখের হয় না বলেই প্রাচীন বিশ্বাস। এই দোষ কাটানোর জন্য প্রাচীনকাল থেকে ‘প্রতীকী তর্পণ’ বা ‘দোষ স্থানান্তর’ প্রক্রিয়া চলে আসছে।

জ্যোতিষীদের মতে, ‘‘মাঙ্গলিক দোষের সবচেয়ে বড়ো কোপ প্রথম বিয়ের ওপর পড়ে। আর হিন্দু ধর্মে কলাগাছ বিষ্ণুর স্বরূপ এবং প্রকৃতির অংশ। কলাগাছকে অত্যন্ত শুভ, পবিত্র ও পুনর্জন্মের প্রতীক রূপে ধরা হয়। যা নেতিবাচক শক্তি কাটাতে পারে। তাই একটি কলাগাছকে প্রথম স্ত্রী অথবা স্বামী হিসেবে সাজিয়ে বিয়ে দেওয়া হয়। বিশ্বাস করা হয়, মঙ্গলের যা কিছু বিষ বা অশুভ নজর, তা ওই গাছের ওপর গিয়ে পড়ে। আর বিয়ের আচার-অনুষ্ঠান মিটে গেলেই নিয়ম মেনে সেই গাছটিকে কেটে ফেলা হয় কিংবা জলাশয়ে বিসর্জন দেওয়া হয়। অর্থাৎ ব্যক্তির প্রথম বিবাহটি কার্যত শেষ হয়ে গেল। সেই সাথে যাবতীয় অমঙ্গল ওই গাছটির সাথেই চলে গেল।’’


গাছটি নষ্ট করার পর যখন আসল পাত্র বা পাত্রীর সাথে বিয়ে হয়, তখন সেটি শাস্ত্রীয় হিসেবে ‘দ্বিতীয় বিবাহ’ বলে গণ্য হয়। যেহেতু প্রথম বিয়ের সাথেই অশুভ শক্তি ধুয়েমুছে গিয়েছে, তাই দ্বিতীয় দাম্পত্যে আর মঙ্গলের কোনো প্রভাব থাকে না বলেই ভক্তদের বিশ্বাস। যদিও আধুনিক মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, ‘‘এটি আসলে বিয়ের আগে মানুষের মনের গভীর ভয় দূর করার একটি প্রথা।’’ তবে বিজ্ঞান একে পুরোপুরি অস্বীকার করলেও, বহু নামী তারকা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ অনেকেই আজও এই রীতিতে ভরসা রেখে কলাগাছকে নিয়ে করে থাকেন।


DISCLAIMER: This channel does not promote any violent, Harmful or illegal activities. All content provided by this channel is meant for an educational purpose only.

Share this article

Facebook
Twitter X
WhatsApp
Telegram
 
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031