অনুপ চট্টোপাধ্যায়ঃ কলকাতাঃ আমতলায় তৃণমূলের প্রাসাদোপম পার্টি অফিস। কিংবা কালীঘাটে হরিশ মুখোপাধ্যায় রোডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি। বিভিন্ন সময় আলোচনার কেন্দ্রে উঠেছে। রাজ্যে পালাবদলের পর হরিশ মুখোপাধ্যায় রোডে অভিষেকের বাড়ির সামনে গিয়ে ফোটো তোলারও হিড়িক পড়েছিল। এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নাম না করে বিধানসভায় ওই ‘প্রাসাদগুলি’ নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, “ওই প্রাসাদগুলোতে কলকাতার রাস্তায় যাঁরা রাতের বেলা ফ্লাইওভারে নীচে থাকেন, তাঁদের রাখব।”

এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, “৪ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট। কেউ কেউ জ্ঞান দিচ্ছিলেন, টাকা আসবে কোথা থেকে। টাকা কোথা থেকে আসবে জানেন? বীরভূমে পাথরে কী করেছেন জানেন? এক বছরে বীরভূমের পাথর থেকে রাজস্ব দিয়েছেন ৬০ কোটি টাকা। আর আমরা একমাসে রাজস্ব দিয়েছি ৮৩ কোটি। এটা ১০০ কোটি হবে। এক বছরে ১২০০ কোটি টাকা। আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তহবিলে ১০০ কোটি, বাকি ১১০০ কোটি ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে যেত দুবাই।”

এরপরই হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “সবার হিসেব হবে। কোনও চোরকে ছাড়া হবে না। আমার দফতর স্বরাষ্ট্র দফতর এই অধিবেশনেই বিল আনছে। বিধানসভায় বিএ (বিজনেস অ্যাডভাইসরি) কমিটি অনুমোদন দিলেই অধিবেশনের শেষ দিন বিল আসবে। অনেকেই ভাবছেন, ২ মাস থাকলাম (জেলে)। তারপর আইনি লড়াই করে বেরিয়ে এলাম। বিল আসছে। সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করব। সম্পত্তির নিলাম করব।” অভিষেকের নাম না দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওই আমতলা, হরিশ চ্যাটার্জি, হরিশ মুখার্জি রোডের ওই প্রাসাদগুলোতে কলকাতার রাস্তায় যাঁরা রাতের বেলা ফ্লাইওভারে নিচে থাকেন, তাঁদের রাখব।”
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
এদিকে, এদিন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে বলব, আপনি যা যা পদক্ষেপ করছেন, পূর্ণ সমর্থন করছি। কিন্তু, যাঁরা যাঁরা হঠাৎ তৃণমূলের সঙ্গে ঝগড়া করে বাঁচার চেষ্টা করছেন, তাঁদের একটাকে বাঁচতে দেবেন না।” তার জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনারা যদি ওদের বিরুদ্ধে কোনও চুরি, দুর্নীতি, ত্রিপল লুকিয়ে রাখা, অবৈধ সম্পত্তির কোনও তথ্য থাকে, লিখিতভাবে দেবেন, আমরা ব্যবস্থা নেব। কথা দিলাম।”










