নিজস্ব সংবাদদাতাঃ সনাতন ধর্ম ও জ্যোতিষ শাস্ত্রে চন্দ্রগ্রহণকে একটি অশুভ ঘটনা হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। তবে চলতি বছরের ফাল্গুন পূর্ণিমা তিথিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আগামী ৩ রা মার্চ হোলিকা দহনের দিন বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ ঘটতে চলেছে। আর এটি দীর্ঘতম চন্দ্রগ্রহণও বটে। জ্যোতিষ গণনা অনুযায়ী, এই গ্রহণের স্থায়িত্ব ৩ ঘণ্টা ২৭ মিনিট। সিংহ রাশি এবং পূর্বফাল্গুনী নক্ষত্রে এই গ্রহণ লাগবে। যেহেতু এই চন্দ্রগ্রহণ ভারত থেকে দেখা যাবে, তাই ধর্মীয় নিয়ম মেনে এর ‘সুতক কাল’ বা অশুচি সময়ও গণ্য হবে।

সূর্যগ্রহণ অথবা চন্দ্রগ্রহণের সময় সূতক কালের গুরুত্ব অপরিসীম। হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে, এই সময় থেকে খাদ্য গ্রহণ ও দেব-বিগ্রহ স্পর্শ কিংবা পূজা করা নিষিদ্ধ। সাধারণত সূর্যগ্রহণের বারো ঘণ্টা আগে এবং চন্দ্রগ্রহণের ন’ঘণ্টা আগে সূতক কাল শুরু হয়ে যায়। এই সময় বাড়ির ও বাইরের মন্দিরের কপাট বন্ধ রাখা হয়। বাড়িতে কোনো প্রকার পূজা-পাঠ করা হয় না।

গ্রহণ শেষে মন্দির এবং গৃহ শুদ্ধিকরণের বিধি অর্থাৎ চন্দ্রগ্রহণ সমাপ্ত হওয়ার পর ঘর-বাড়ি ও ঠাকুরঘর শুদ্ধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূণ বলে মনে করা হয়। এর সঠিক নিয়মগুলি নীচে দেওয়া হলো-
Sponsored Ads
Display Your Ads Here- স্নান ও গঙ্গাজলঃ বাড়ির সদস্যরা স্নান সেরে নিয়ে গোটা মন্দিরে গঙ্গাজল ছিটিয়ে দিতে হবে।
- পরিচ্ছন্নতাঃ মন্দির পরিষ্কার করার পর বিগ্রহের পুরোনো পোশাক সরিয়ে ফেলতে হবে।
- অভিষেকঃ প্রতিটি প্রতিমাকে পরিষ্কার জলে স্নান করিয়ে গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধ করতে হবে। এরপর দেবতাকে নতুন বস্ত্র, টাটকা ফুল এবং ভোগ অর্পণ করে আরতি ও পূজা সম্পন্ন করতে হবে।

অন্যদিকে, গৃহ শুদ্ধিকরণ বা গৃহের নেতিবাচক প্রভাব কাটাতে শাস্ত্রীয় কিছু টোটকা মানার পরামর্শ দেওয়া হয়-
- লবণ জল ও গোমূত্রঃ এক চিমটি লবণ মেশানো জল দিয়ে পুরো বাড়ি মুছে নিয়ে সব জায়গায় গঙ্গাজল এবং গোমূত্র ছিটিয়ে দিতে হবে।
- ধূপ-ধুনোঃ বাড়িতে শান্তি বজায় রাখতে ও পরিবেশ পরিশুদ্ধ করতে ঘিয়ে ভেজানো ধূপ অথবা হোমের ধোঁয়া দিতে হবে।










