পিঙ্কি পালঃ দক্ষিণ চব্বিশ পরগণাঃ ভোটের দামামা বাজতেই রক্তপাত শুরু। গতকাল দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার রায়দিঘী বিধানসভার দিঘিরপাড় বকুলতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের মেনা এলাকায় বিজেপি কর্মী খুনে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মৃত হলো কিশোর মাঝি। বয়স ৩৯ বছর ২১৬ নম্বর বুথের বিজেপির সহ-সভাপতি ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীররাতেরবেলা কয়েক জন এলাকাবাসী কিশোর মাঝিকে বাড়ির পাশেই পুকুরের পাড় থেকে ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত রায়দিঘি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করতেই এলাকায় ব্যাপক শোরগোল ছড়িয়ে পড়ে। ভোট ঘোষণার পর থেকেই তার উপর তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের তরফে হুমকি আসছিল বলে অভিযোগ ওঠে। পুলিশ খবর পেয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তদন্ত নেমে পুলিশ প্রথমে তিন জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

শেষে নিহত বিজেপি কর্মীর স্ত্রী অনিমা দাস এবং তাঁর প্রেমিক গোবিন্দ হালদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহতের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সুন্দরবন পুলিশ জেলার এসপি বিশ্বচাঁদ ঠাকুর। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। খবর পাওয়ার পর সকালেই নিহত বিজেপি কর্মীর বাড়িতে পৌছায় রায়দিঘি বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী পলাশ রানা। নিহত বিজেপি কর্মীর বৌদি বলছেন, “পাশের বাড়ির কাকা গোবিন্দ হালদারই এই কাজ করেছে। ওর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে এদের বাড়িতে অশান্তি হত। এর মধ্যে রাজনীতি নেই বলেই আমাদের মনে হয়।”
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী পলাশ রানা এই প্রসঙ্গে জানান, “পুলিশ আর এখানকার তৃণমূল অবৈধ সম্পর্ক বলে নাটক তৈরী করছে। আসলে খুন করে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলে তা বিফল হবে। এই খুনের বিচার না মিললে বিজেপির আন্দোলন চলবে।” যদিও তৃণমূল সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মথুরাপুরের তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদার জানান, “বিজেপি এটা নিয়ে আসলে ঘোলা জলে মাছ ধরতে চাইছে। কিন্তু এটা আদপে ত্রিকোণ প্রেমের বিষয়। এখন বিজেপি তৃণমূলের নামে দোষ দিতে চাইছে। এর থেকে ঘৃণ্য চক্রান্ত আর কিছু হতে পারে না।”











