অনুপ চট্টোপাধ্যায়ঃ কলকাতাঃ রবিবার ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শ্যুটিংয়ে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে গোটা টলিউড শোকস্তব্ধ। এদিন বিকেলে ঠিক কি ঘটেছিল, সবার চোখের সামনে রাহুল তলিয়ে গেলেন কিভাবে? সেটাই এখন সবথেকে বড়ো প্রশ্ন। ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্ত হয়েছে। সম্পূর্ণ রিপোর্ট সামনে না এলেও, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ফুসফুস জলে ভরে গিয়ে ফুলে দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। আর খাদ্যনালীর ভিতরেও বালি ও নোনা জল ঢুকে গিয়েছিল। তবে,শরীরে কোনো অ্যালকোহলের উপস্থিতি ছিল কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ভিসেরা পরীক্ষাও হবে বলে জানা গিয়েছে।

পুলিশের তরফে এখনো রিপোর্টের বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অভিনেতার ফুসফুস নোনাজলে ভরে গিয়েছিল। বালি ঢুকে দমবন্ধ হয়ে যায়। আর হৃদস্পন্দন থেমে মৃত্যু হয়। এদিকে, ঘটনার সময়ের যে ভিডিয়ো ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে, রাহুল জলে ভাসছেন। পুলিশের দাবী, ‘‘হাঁটুজলে একটি নাচের দৃশ্যে শ্যুটিং চলছিল, সেখানেই রাহুল এবং অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র একটি গর্তে পড়ে যান। শ্বেতাকে উদ্ধার করা গেলেও, যখন রাহুলকে তোলা হয়, ততক্ষণে অনেকটাই নোনাজল খেয়ে ফেলেছেন।’’

পুলিশ বা প্রশাসনকে না জানিয়েই ওই শ্যুটিং চলছিল বলে জানা যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, যথাযথ নিরাপত্তার বন্দোবস্ত না করে শ্যুটিং চলছিল কেন? কিছু লুকোনোর চেষ্টা চলছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। শ্যুটিংয়ের ম্যানেজার জানান, ‘‘প্যাক আপ হয়ে গিয়েছিল।’’ কিন্তু ডিরেক্টর বলেন, ‘‘ড্রোন শট বাকি ছিল। সকলের প্যাক আপ হয়নি। রাহুল ও শ্বেতার শট বাকি ছিল। ক্যামেরা সেট আপ করা হচ্ছিল, তখন রাহুল সমুদ্রে এগিয়ে যান।’’ এক্ষেত্রেও প্রশ্ন উঠছে যে, শ্যুটিংয়ের এতজন কলাকুশলী, টেকনিশিয়ান উপস্থিত ছিলেন, তাদের মাঝখান দিয়ে রাহুল সমুদ্রে নামলেনই বা কিভাবে?
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
এদিন ময়নাতদন্তের পরে রাহুলের শববাহী গাড়ি কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। সঙ্গে অভিনেতার গাড়িচালক, ধারাবাহিকের প্রোডাকশন ম্যানেজার সহ বেশ কয়েকজন রয়েছেন। তমলুক থেকে মৃতদদেহ সরাসরি বিজয়গড়ের বাড়িতেই আনা হবে। এরপর কেওড়াতলা শ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।











