মিনাক্ষী দাসঃ বার্ড ফ্লুর কারণে অনেকেই চিকেন খাওয়া বন্ধ করার কথা ভাবছেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, আতঙ্ক নয়, সঠিক পরিচ্ছন্নতা ও ভালোভাবে রান্না করলে আপনার পছন্দের চিকেনকে খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং ভারতের খাদ্য সুরক্ষা ও মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (FSSAI) তরফে জানা গেছে, বার্ড ফ্লু ভাইরাস উচ্চ তাপমাত্রায় ধ্বংস হয়ে যায় এবং সঠিকভাবে রান্না করা মুরগীর মাংস সাধারণত নিরাপদ।

তবে কাঁচা মুরগীর মাংস কাটা ও পরিষ্কার করার সময় বিপদের আশঙ্কা বেশী থাকে। তাই বাড়িতে চিকেন পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন। মাংস ধরার আগে-পরে ভালো করে হাত ধোয়া বাধ্যতামূলক। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, কাঁচা মাংসের জন্য আলাদা জায়গা রাখতে হবে। সব্জি বা রান্না করা খাবারের সাথে একই জায়গায় কাঁচা মাংস রাখলে সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। একে ‘ক্রস কনটামিনেশন’ বলা হয়। ভারতের খাদ্য সুরক্ষা এবং মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থার তথ্য অনুসারে যা এড়ানো অত্যন্ত জরুরী।

অনেকেই ভাবেন, জোরে কল চালিয়ে সেই জলে ধুলেই চিকেন বেশী পরিষ্কার হবে। কিন্তু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এতে জল ছিটকে আশপাশে জীবাণু ছড়াতে পারে। তাই ধীরে পরিষ্কার করাই ভালো। নিরাপদ ছুরি ও কাটিং বোর্ড আলাদা ব্যবহার করতে হবে। কাঁচা মাংস কাটার বোর্ডে অন্য কিছু কাটা হলে ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে। CDC (Centers for Disease Control and Prevention) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী আলাদা ছুরি এবং কাটিং বোর্ড ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। চিকেন পরিষ্কার করার পর ছুরি, বোর্ড ও বেসিন সিঙ্ক গরম জল এবং জীবাণুনাশক দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এতে সংক্রমণের আশঙ্কা অনেকটাই কমে। ভালো করে রান্নাঘর পরিষ্কার করে নিলে বিপদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
এছাড়া সাবান ও পরিষ্কার জলে অন্তত কুড়ি সেকেন্ড হাত ধুতে হবে। যাতে ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি কমে। সম্ভব হলে চিকেন পরিষ্কারের সময় গ্লাভস ব্যবহার করে তা ব্যবহারের পর তা ফেলে দিলে সরাসরি জীবাণুর সংস্পর্শ এড়ানো যায়। চিকেন ও ডিম সম্পূর্ণ সেদ্ধ করে রান্না করা উচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে, কমপক্ষে সত্তর ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রান্না করলে বার্ড ফ্লুর ভাইরাস নিষ্ক্রিয় হয়। আধসেদ্ধ মাংস অথবা ডিম খাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।










