নিজস্ব সংবাদদাতাঃ নয়া দিল্লিঃ জ্বালানী নিয়ে কেন্দ্রের বড়ো সিদ্ধান্ত। আবার পরিবর্তিত হল রান্নার গ্যাস বুকিংয়ের সময়সীমা। গৃহস্থের বাড়িতে ব্যবহৃত ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার এবার থেকে ২৫ দিন নয়, ৩৫ দিন বাদে বুকিং করতে হবে। গ্রাম ও শহরের জন্য এই নিয়ম প্রয়োজ্য। যদিও কেন্দ্রের তরফে এমন কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি এখনও।

ডিলারদের দাবি, ডবল বা দুটি সিলিন্ডারের কানেকশন যাদের রয়েছে, তাদের এবার থেকে দুটি সিলিন্ডার বুকিংয়ের মাঝে অন্তত ৩৫ দিনের ব্যবধান রাখতে হবে। সিঙ্গল সিলিন্ডারের কানেকশনে গ্যাস বুকিংয়ের ক্ষেত্রে সময়সীমা ২৫ দিনই থাকছে। অর্থাৎ একটি গ্যাস ডেলিভার হয়ে যাওয়ার ৩৫ দিন বাদে দ্বিতীয় গ্যাস বুক করা যাবে। তবে ৫ ও ১০ কেজির সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে গ্রাম ও শহরে গ্যাস বুকিংয়ের সময়সীমা আলাদা। ৫ কেজির সিঙ্গল সিলিন্ডার ৯ দিন বাদে বুক করা যাবে। ডাবল সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে ১২ দিন পর বুকিং করা যাবে। উজ্জ্বলা যোজনার অধীনে কানেকশন হলে, ১৬ দিন বাদে ৫ কেজির সিলিন্ডার ফের বুক করা যাবে।

একইভাবে, ১০ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার ডেলিভারির ২৫ দিন পরবর্তী গ্যাস সিলিন্ডার বুক করা যাবে। ডিলারদের সূত্রে খবর, উজ্জ্বলা যোজনার অধীনে এলপিজি কানেকশন যাদের, তাদের গ্যাস বুকিংয়ের সময়সীমাতেও পরিবর্তন হয়েছে। ডবল সিলিন্ডার হলে, একটি গ্যাস ডেলিভারির ৪৫ দিন বাদে পরবর্তী গ্যাস বুক করা যাবে। প্রসঙ্গত, এই নিয়ে তৃতীয়বার গ্যাস বুকিংয়ের নিয়মে বদল হল। প্রথমে ২১ দিন বাদে বুকিং করা যেত। পরে তা বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়। এখন একলাফে আরও ১০ দিন বাড়িয়ে বুকিংয়ের সময়সীমা ৩৫ দিন করা হল।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
এই বিষয়ে একজন গ্যাস ডিলার বলেন, “আমাদের কোটা বা বরাদ্দ ৩০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ৭০ শতাংশ বরাদ্দ দিয়ে সকল গ্রাহকদের গ্যাস দিতে হবে। তাই ডবল সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে বুকিংয়ের সময়সীমা বাড়িয়ে ৩৫ দিন করা হল। অর্থাৎ যে দিন আপনার বাড়িতে শেষ গ্যাস সিলিন্ডার ডেলিভার হয়েছে, তার থেকে ৩৫ দিন পর আপনি দ্বিতীয় সিলিন্ডারের জন্য বুকিং করতে পারবেন। তার আগে নয়। বুকিং করার ১২-১৩ দিন পর গ্যাস ডেলিভার হবে। উজ্জ্বলা যোজনার কানেকশন যাদের, তাদের জন্য এই সময়ের ব্যবধান ৪৫ দিন।”

তিনি আরও জানান যে তাদের কাছে সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ আসে না, অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলির তরফে মেসেজ এসেছে। সেই বার্তাই তারা গ্রাহকদের জানাচ্ছেন। এই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষদের উপরে বেশ চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষত, যাদের বড় পরিবার, তাদের পুরো পরিবারের জন্য রান্না করতে গেলে ২৬ বা ২৮ দিন চলে। যাদের বাড়িতে ১০-১২ জন সদস্য, তাদের তো এক মাস গ্যাস চলে না, সেক্ষেত্রে তারা বেশ সমস্যার সম্মুখীন হবেন। যদিও রান্নার গ্যাসের সঙ্কট দেখা দিতেই অনেকে ইন্ডাকশন কুকার, এয়ার ফ্রায়ার, ইলেকট্রিক কেটলি, মাইক্রোওয়েভ কিনে, তাতে রান্নার ব্যবস্থা করছেন। যাদের সামর্থ্য নেই, তারা আবার কাঠ-কয়লা বা ঘুঁটের জ্বালানিতে ফিরে গিয়েছেন।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here










