"INDIAN PRIME TIME" MSME Registration No: UDYAM - WB - 10 - 0189506

"INDIAN PRIME TIME" MSME Registration No: UDYAM - WB - 10 - 0189506

আগুন নিভলেও রয়ে গেছে রেশ, আশপাশে এখনো ভাসছে পোড়া গন্ধ

Share

অনুপ চট্টোপাধ্যায়ঃ কলকাতাঃ রবিবার গভীর রাতে আনন্দপুর এলাকার নাজিরাবাদে একটি ডেকরেটর্সের গোডাউনে আগুন লাগলে মঙ্গলবার সকালে আগুন নিভলেও কোনো কোনো অংশে পকেট ফায়ার রয়ে গিয়েছে। ছাইয়ের স্তূপ থেকে হাড়গোড় বেরোচ্ছে। চারিদিক থেকে পোড়া পোড়া গন্ধ বেরোচ্ছে। গোডাউনে থার্মোকল সহ একাধিক দাহ্য পদার্থ থাকায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আর পাশে অবস্থিত একটি মোমো সংস্থার কারখানাতেও আগুন লেগে যায়। দমকল বিভাগ খবর পেয়ে বারোটি ইঞ্জিন নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়।

এই দুর্ঘটনায় এখনো অবধি তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। আর নরেন্দ্রপুর থানায় আট জনের পরিবারের তরফে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে। তবে নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা ৩০-এর কাছাকাছি বলে অভিযোগ। কোনও কোনও মহলে মৃতের সংখ্যা সাত বলেও দাবি করা হয়েছে। যদিও প্রশাসনিক ভাবে তা মানা হচ্ছে না। এই মৃত এবং নিখোঁজদের অধিকাংশই দুর্ঘটনার সময়ে গোডাউনে ছিলেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ছাইয়ের স্তূপ থেকে হাড়গোড় বার হচ্ছে, সামনে এসেছে এমনই দৃশ্য।

মঙ্গলবার সকালে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু এবং দমকলের ডিজি রণবীর কুমার। দুর্ঘটনাস্থলে যে উপযুক্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না, তা স্বীকার করেছেন রণবীর। স্থানীয়দের অভিযোগ, দমকল দপ্তরের তরফে আগে নজরদারি চালানো হলে এই দুর্ঘটনা হয়তো এড়ানো যেত। দমকলের ডিজি বলেন, ‘‘অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে FIR করা হবে। আইনি পদ্ধতি মেনে সমস্ত পদক্ষেপ করা হবে। নজরদারির অভাব সংক্রান্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনেক জায়গাতেই অডিট করা হয়। এই জায়গাটা হয়তো কোনও কারণে মিস হয়ে গিয়েছে।’’


অন্যদিকে, দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু বলেন, ‘‘যখন প্রথম দমকল এখানে পৌঁছয়, সেই সময়ে পরিস্থিতি অনেক জটিল ছিল। গোটা এলাকাটি কাঠামোয় (থার্মোকল ও প্লাস্টিকের) ভরা ছিল। এখানে অগ্নিনির্বাপণের পর্যাপ্ত জিনিসপত্র দেখা যায়নি। গোটা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হবে। ফায়ার অডিট হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। ঘটনায় দমকলের তরফে FIR করা হবে।’’ আইনত সমস্ত পদক্ষেপ করার আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি অনেক মানুষ নিখোঁজ থাকার অভিযোগ উঠেছে, স্বীকার করেন সেই বিষয়টিও।

এ দিকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় জলা জমি ভরাট করে বেআইনি ভাবে গুদাম, কারখানা গড়ে তোলার অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি নেত্রী শর্বরী মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘গত ১৩, ১৪ বছর ধরে দেখছি, এখানে বেআইনী ভাবে জলা জমি ভরাট হচ্ছে। এখান থেকে পোড়া মাংসের গন্ধ বেরোচ্ছে।’’ তিনজন মৃতের দেহ এখনও শনাক্ত করা যায়নি। মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে ফরেন্সিক টিম। ওই কারখানা এবং গোডাউন থেকে উপযুক্ত নমুনা সংগ্রহ করছে তারা।


প্রশাসন সূত্রে খবর, দুর্ঘটনাগ্রস্ত গোডাউনে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক, ময়না এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলার অনেকেই কাজ করতেন এবং রাতে সেখানে থাকতেন। তাঁরা নিখোঁজ বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের। অন্যদিকে, মোমো তৈরির কারখানায় দু’জন সুরক্ষাকর্মী ছিলেন। অনুমান করা হচ্ছে, তাঁরা যখন ঘুমিয়েছিলেন, সেই সময়ে আগুন লাগে। সেখান থেকে বেরনোর সুযোগ পাননি তাঁরা। কী ভাবে এই আগুন লাগল? তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ওই গোডাউনের মালিক গঙ্গাধর দাসের নামে একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে। যদিও এখনো পর্যন্ত এই দুর্ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।


DISCLAIMER: This channel does not promote any violent, Harmful or illegal activities. All content provided by this channel is meant for an educational purpose only.

Share this article

Facebook
Twitter X
WhatsApp
Telegram
 
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031