নিজস্ব সংবাদদাতাঃ ঝাড়গ্রামঃ গতকাল ঝাড়গ্রামের বিনপুর দু’নম্বর ব্লকের শিলদা গ্রাম পঞ্চায়েতের শুকজোড়া গ্রামে প্রবল বৃষ্টিতে একটি দোতলার মাটির ঘরের দেওয়াল ধসে ১ জন কলেজ পড়ুয়ার মৃত্যু হয়। মৃতের নাম পিঙ্কি দাস। আর আহত হয়েছেন পিঙ্কির ঠাকুমা শোভা দাস, বাবা মৃণালকান্তি দাস ও দাদা সুজিত দাস। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য পড়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুকজোড়া গ্রামে টিনের ছাউনি দেওয়া দোতলা একটি মাটির বাড়িতে বসবাস করতেন পিঙ্কিরা। পিঙ্কি শিলদা চন্দ্রশেখর কলেজের পড়ুয়া। সুজিত উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পরে অন্ধ্রপ্রদেশের একটি কারখানায় পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। কয়েক মাস আগেই বাড়ি ফিরেছেন তিনি। পিঙ্কির বাবা শিলদার একটি সাইকেল দোকানের কর্মী ছিলেন। বর্তমানে শারীরিক অসুস্থতার কারণে বাড়িতেই থাকেন। পিঙ্কির মা মামনি দাস ও ঠাকুমা শোভা দাস ঘরের সব কিছু সামলান।

সুজিত বাড়ি ফিরে টাকা জমিয়ে বাড়ির একটি অংশ ভেঙে পাকা বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন। পাকা বাড়ির কলম ঢালাইয়ের জন্য মাটি খুঁড়ে লোহার রডের কাঠামো বসানো হয়। পাশের দোতলা মাটির বাড়ির নীচের ভাগে একটি ঘরে খাটের উপরে পিঙ্কি, তাঁর ঠাকুমা ও দাদা ঘুমিয়ে ছিলেন। পাশের অন্য একটি ঘরে পিঙ্কির মা ও বাবা ছিলেন। শুক্রবার রাতে মাটির বাড়ির একটি দেওয়াল ভেঙে দু’খণ্ড হয়ে যায়। একটি খণ্ড বাইরের দিকে ও উপরের খণ্ডটি ঘরের ভিতরে পড়ে যায়। আর ঘরের ভিতরে পড়া অংশই চাপা পড়ে পিঙ্কি-সহ তাঁর দাদা ও ঠাকুমা চাপা পড়ে যান। ভাঙা দেওয়ালের একটা অংশ ছিটকে আহত হন পিঙ্কির বাবাও। চিৎকার শুনে ছুটে আসেন পড়শিরা।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
এরপর আহতদের উদ্ধার করে বেলপাহাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পিঙ্কিকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি তিন জনকে ঝাড়গ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এদিন বিনপুর দু’নম্বর ব্লক প্রশাসনের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের একটি দল শুকজোড়া গ্রামে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। জেলা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক তথা জেলাশাসক আকাঙ্খা ভাস্কর বলেন, ‘‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তদন্ত করে দেখা হবে। যদি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে দেওয়াল ভেঙে এই ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে মৃতের পরিবারকে সরকারী নিয়ম অনুযায়ী সাহায্য করা হবে।’’











