ব্যুরো নিউজঃ পাকিস্তানঃ পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের ফারুকাবাদে ১২৫ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ‘গুরুদ্বার শ্রী গুরু সিংহ সভা সাহেব’ ভেঙে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৪ জুন গভীর রাতে পাকিস্তানের এক ব্যবসায়ী (ল্যান্ড মাফিয়া) প্রশাসনের কোনও অনুমতি ছাড়াই এই প্রাচীন গুরুদ্বারটি বুলডোজ়ার এনে রাতারাতি গুঁড়িয়ে দেয়। এই ঘটনায় ব্যাপক ক্ষুব্ধ হন স্থানীয় শিখ সম্প্রদায়ের লোকজন। ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ফারুকাবাদে।

প্রশাসন সূত্রে খবর, গুরুদ্বারের জমিটি দখলের জন্য কোনও NOC বা অনুমতি ছাড়াই আচমকা গুরুদ্বারটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শুধু গম্বুজটি ভাঙার কথা বলা হলেও, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে পুরো গুরুদ্বারই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পাকিস্তানের নানকানা সাহিবের শিখ প্রতিনিধি ভূপিন্দর সিং অভিযোগ করেছেন যে, প্রশাসনের চোখের সামনে এই প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী গুরুদ্বারটি ভেঙে ফেলা হলেও স্থানীয় ‘ইভাকুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ড’ বা প্রশাসন প্রথমে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। শিখ প্রতিনিধিদের মতে, এই গুরুদ্বারটি ১৮৭৩ সালে শুরু হওয়া ঐতিহাসিক ‘সিংহ সভা আন্দোলন’-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ১ জুলাই, ২০২৬-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘পাকিস্তানের ফারুকাবাদে ১২৫ বছরের পুরনো পবিত্র গুরুদুয়ারা শ্রী গুরু সিংহ সভা সাহেব ভেঙে ফেলার ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও নিন্দনীয়। একটি পুণ্য ধর্মস্থানের ওপর পরিকল্পিতভাবে চালানো এই ধ্বংসযজ্ঞের আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং তাঁদের উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু করার এই ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, বরং এটি ধর্মীয় অসহিষ্ণুতারই বহিঃপ্রকাশ।’ ভারতের পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং ভেঙে ফেলা অংশটি দ্রুত পুনর্নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।’
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
ঘটনাটি নিয়ে তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী রমেশ সিং অরোরা (যিনি পাকিস্তান শিখ গুরুদ্বার প্রবন্ধক কমিটির সভাপতি) ফারুকাবাদ এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি স্বীকার করেছেন, গুরুদ্বারের অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রশাসন খুব দ্রুত এই ঐতিহাসিক শিখ ঐতিহ্যটি পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ শুরু করবে। বর্তমানে ওই গুরুদ্বারের অতিরিক্ত কোনও নির্মাণ বা ভাঙার কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে পুরো চত্বর সিল করে দেওয়া হয়েছে।










