নিজস্ব সংবাদদাতাঃ নয়া দিল্লিঃ পাসপোর্টকে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসাবে গণ্য করা হবে কি না বা পাসপোর্ট দেখিয়ে সরকারী সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় কি না, এই নিয়ে যখন সাধারণ মানুষের মধ্যে সংশয় তৈরী হয়েছে, সেই সময়ই বিদেশ বিদেশ মন্ত্রক বিবৃতি দিয়ে জানালো, পাসপোর্ট শুধুমাত্র ভ্রমণের নথি বা ট্রাভেল ডকুমেন্ট।এটিকে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসাবে গণ্য করা যায় না।

পাসপোর্টের ব্যবহার নিয়ে কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা জানান, ভারতীয় নাগরিকদের পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। এর মূল লক্ষ্য হল আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও বিদেশে ভারতীয় নাগরিক হিসাবে পরিচিতির প্রমাণ। এটি নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, পাসপোর্ট পরিষেবা ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। আগে পাসপোর্ট তৈরিতে অনেকদিন সময় লেগে যেত, এখন তা কমে গিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই পাঁচ দিনে পাসপোর্ট তৈরি হয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তির উন্নতি এতটা হয়েছে যে আবেদনকারীদের এখন পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রে ৪৫ মিনিটেরও কম সময় লাগে।

চিপ বসানো ই-পাসপোর্ট পরিষেবা দেশজুড়ে চালু করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছর মে মাস থেকে নতুন ইস্যু করা সমস্ত পাসপোর্টেই থাকছে একটি ইলেকট্রনিক চিপ, যেখানে নাগরিকের বায়োমেট্রিক তথ্য থাকে। ডকুমেন্টের সুরক্ষা, প্রতারণা বা জালিয়াতি রুখতে এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত চেকপয়েন্টে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। দেশজুড়ে বর্তমানে ৫৪৫টি পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। চলতি বছরেই সরকারের আরও ২০টি পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র খোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
২০২৭ সালের মধ্যে প্রতিটি লোকসভা কেন্দ্রে অন্তত একটি করে পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ মোবাইল পাসপোর্ট টিমও রয়েছে দুর্গম বা প্রত্যন্ত অঞ্চলের নাগরিকদের পরিষেবা দেওয়ার জন্য। পাসপোর্ট পরিষেবা বাড়লেও, এখনও দেশের মাত্র ১০ শতাংশ জনসংখ্যার কাছে পাসপোর্ট আছে। যেহেতু বিদেশে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও বাণিজ্যের সুযোগ বাড়ছে এবং তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, তাই সরকারও এই ট্রাভেল ডকুমেন্টকে বিশেষ প্রাধান্য দিচ্ছে। বর্তমানে ২৭টি দেশ ভারতীয় পাসপোর্ট হোল্ডারদের ভিসা ফ্রি প্রবেশের অধিকার দেয়। ৪৭টি দেশ ভিসা অন অ্যারাইভাল ও ৬৬টি দেশ ই-ভিসা পরিষেবার সুযোগ দেয় ভারতীয় নাগরিকদের।










