রায়া দাসঃ কলকাতাঃ গতকাল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবেই এসএসকেএমের রোগীকল্যাণ সমিতির বৈঠকে যোগ দেন। গত ১৫ ই মে তিনি এই হাসপাতালেই পরিষেবা সচ্ছল রাখতে স্বাস্থ্যকর্তাদের বৈঠকে যে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন এদিনও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রাজ্যে পালাবদলের পরে এদিনই প্রথম এসএসকেএম (পিজি) হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির বৈঠক হয়। প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠকে স্বাস্থ্যসচীব নারায়ণস্বরূপ নিগম ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহার উপস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট নির্দেশ দেন, “বিনা কারণে কোনো রোগীকে যেন হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে দেওয়া না হয় বা অন্যত্র স্থানান্তর করা না হয়।

সূত্রের খবর, রোগী পরিষেবা ও শয্যা–সঙ্কটের বিষয়টি বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায়। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এসএসকেএমে ১০০ শয্যা বাড়ানো হয়েছে। তবু যাতে শয্যার অভাবে রোগীদের ভোগান্তির মুখে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে বৈঠকে ফের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ, রাজ্যের অন্যতম প্রধান সুপার–স্পেশালিটি হাসপাতাল হওয়া সত্ত্বেও বহু রোগীকে, বিশেষ করে রাতের দিকে, শয্যা না থাকার কারণ দেখিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয় বা ইমার্জেন্সি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে আউটডোরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনে জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

বৈঠকে হাসপাতালের ভিতরে দালাল–চক্রের সক্রিয়তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সূত্রের দাবি, সরকারি হাসপাতালগুলিতে দালালদের দৌরাত্ম্য রুখতে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এসএসকেএমের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কোনও অবস্থাতেই এই ধরনের চক্রকে সক্রিয় হতে না দেওয়ার স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি। বৈঠকে স্বাস্থ্যকর্তা ও হাসপাতাল কর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগের প্রধান চিকিৎসক, ছাত্র প্রতিনিধি এবং পুলিশ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও বাঙুর ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস (বিআইএন)–এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তবে বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কেউই আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও মন্তব্য করেননি। মুখ্যমন্ত্রী বেরিয়ে যাওয়ার পরে হাসপাতালের আধিকারিকরা ফের এক দফা বৈঠক করেন নিজেদের মধ্যে।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here









