অনুপ চট্টোপাধ্যায়ঃ কলকাতাঃ রাজ্যে পদ্ম ফুল ফুটতেই শিক্ষা-স্বাস্থ্য থেকে প্রশাসনিক ক্ষেত্র সর্বত্রই আমূল পরিবর্তন ঘটছে। ভেঙে পড়া শিক্ষাব্যবস্থার মেরুদণ্ড সোজা করতে তৎপর বিজেপি সরকার। শিক্ষামন্ত্রীর নাম ঠিক করা না হলেও আপাতত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্তকে সচীবের সঙ্গে সংযোগ রেখে কাজ করতে বলেছেন। সূত্রের খবর, দুর্নীতি-মুক্ত করার পাশাপাশি সিলেবাসেও বিরাট পরিবর্তন আসতে পারে। পাঠ্যবই থেকে অনেক বিষয় বাদ পড়তে পারে। বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের কথায় তেমনই ইঙ্গিত পাওয়া গেল।

২০১১ সালে পালাবদলের পর বেশ কিছু বিষয় সিলেবাসে যুক্ত হয়েছিল। অষ্টম শ্রেণীর বইতে চার পাতা জুড়ে সিঙ্গুরের ইতিহাস রয়েছে। রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের টাইমলাইন। আর ওই সময় বিরোধী দলনেতা পদে থাকা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নামও ইতিহাস বইতে রয়েছে। এগুলো এবার বাদ পড়তে পারে। বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ এই প্রসঙ্গে জানান, “এগুলো আর থাকবে না।” পাশাপাশি মুঘল ইতিহাস সম্পর্কে বলেন, “ইতিহাসে যে লেখা আছে, আকবর ছিলেন বিরাট ধার্মিক মানুষ, শাহজাহান প্রেমের প্রতীক-এসব ওদের লোকেরাই লিখেছিল। এগুলোও বদলে যাবে।” ইতিমধ্যেই সিলেবাস পরিবর্তন করতে বিকাশ ভবনে আবেদন জমা পড়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী এলে সিলেবাস থেকে সিঙ্গুর আন্দোলন বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে মনে করা হচ্ছে। শিক্ষাবিদদের মতে, “আগেই এই বিষয়গুলো ইতিহাস থেকে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন ছিল।” যোগেশচন্দ্র চৌধুরী কলেজের অধ্যক্ষ পঙ্কজ রায় জানালেন, “ইতিহাসের রাজনীতিকরণ করা হয়েছিল। আমি কত বড়ো নেত্রী ছিলাম, সেটা ছাত্রদের পড়াতে শুরু করেছিলেন। আমাদের রাহুমুক্তি হয়েছে। এবার শিক্ষা স্বঘোষিত নৈরাজ্য থেকে মুক্তি মিলবে বলেই আশা করি।” এই বিষয়ে একমত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা নন্দিনী মুখোপাধ্যায় বলেছেন, “সিঙ্গুর আন্দোলন তো আসলে এগিয়ে যাওয়াকে প্রতিরোধ করেছে। বাদ যাচ্ছে সেটা ভালো কথা।”
Sponsored Ads
Display Your Ads Here










