নিজস্ব সংবাদদাতাঃ উত্তরপ্রদেশঃ উত্তরপ্রদেশে প্রবল ঝড়, বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টির কারণে লন্ডভন্ড উত্তরপ্রদেশের একাধিক জেলা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রচুর ঘরবাড়ি। গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে ব্যাহত স্বাভাবিক জনজীবন ও যান চলাচল। বিপর্যস্ত এলাকায় দ্রুত ত্রাণ পৌঁছনো ও উদ্ধারকার্যের নির্দেশ দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। ঝড়ের একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়েছে। যেখানে দেখা গিয়েছে, প্রবল হাওয়ায় এক ব্যক্তি উড়ে কয়েকশো ফুট দূরে গিয়ে পড়েন।

উত্তরপ্রদেশের ত্রাণ কমিশনার অফিস এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্টে জানিয়েছে, এদিন বেলা ১২টা পর্যন্ত ৫৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ১১৪টি গবাদি পশুর প্রাণহানি এবং ৮৭টি ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ সমস্ত বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে। প্রয়াগরাজে সর্বোচ্চ ২১ জন, ভাদোহীতে ১৬ জন, ফতেহপুরে ১১ জন এবং মির্জাপুরে ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। প্রবল ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়া, ঘরবাড়ির দেওয়াল ধসে যাওয়া এবং আচমকা বজ্রপাতের কারণে বেশিরভাগ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

পাশাপাশি রাজ্যের অন্তত ৮৭টি বাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শয়ে শয়ে বিদ্যুতের খুঁটি ও গাছ ভেঙে পড়ায় যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। কৃষিব্যবস্থার ক্ষতি: দুর্যোগে ১১৪টিরও বেশি গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে এবং গম ও সবজি চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ মৃতদের পরিবারের জন্য ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধার এবং চিকিৎসাসেবা প্রদানের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রয়াগরাজ জেলা প্রশাসনের প্রকাশিত একটি তালিকা অনুযায়ী, ঝড় ও বৃষ্টির কারণে হান্ডিয়া এলাকায় সাত জন, ফুলপুরে চার জন, সোরাওঁ-এ তিন জন, মেজায় দু’জন এবং সদর এলাকায় এক জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
ভাদোহি জেলায় ঝড়বৃষ্টির কারণে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফতেহপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অবিনাশ ত্রিপাঠী জানিয়েছেন, তাঁদের জেলায় নয় জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। অন্য দিকে, প্রতাপগড় জেলায় প্রবল ঝড় ও বৃষ্টির জন্য দেওয়াল ধসে পড়া, সিমেন্টের ছাউনি ভেঙে পড়া এবং বজ্রপাতের মতো পৃথক ঘটনায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এই জেলার পুলিশ সুপার দীপক ভুকর বলেন, ‘লালগঞ্জ কোতয়ালি এলাকার ওঝা কা পুরওয়া গ্রামে একটি সিমেন্টের ছাউনি ধসে তার ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে ভীম যাদব (২৫) নামের এক যুবক মারা যান।

বাঘরাই থানা এলাকার সারি স্বামী গ্রামে একটি দেওয়াল ধসে পড়ে ভূষণ পান্ডে (৫৬) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়।’ পাত্থর গির্জঘর, অশোক নগর, কাছারি রোড এবং মহাত্মা গান্ধী মার্গ-সহ বিভিন্ন এলাকায় গাছ পড়ে জনজীবন ব্যাহত হয়ে পড়েছে। কল্যাণী দেবী এলাকাতেও একটি জরাজীর্ণ গাছ উপড়ে পড়েছে। ঝড়ের কারণে প্রয়াগরাজের বেশ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুরসভার টিম রাস্তা থেকে পড়ে যাওয়া গাছ সরানোর কাজ শুরু করেছে। যান চলাচল শীঘ্রই স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here










