অনুপ চট্টোপাধ্যায়ঃ কলকাতাঃ মাসের শুরুতেই দুঃসংবাদ। দাম বেড়ে গেল এলপিজি সিলিন্ডারের। তাও আবার একশো-দুশো টাকা নয়, প্রায় ১ হাজার টাকা বেড়ে গেল এলপিজি সিলিন্ডারের দাম। আকাশছোঁয়া হয়ে গেল ১৯ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম। আজ, ১ মে থেকেই নতুন দাম কার্যকর হতে চলেছে। হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধির জেরে সাধারণ মানুষের উপরে বিরাট চাপ সৃষ্টি হতে চলেছে।

প্রতি মাসের শুরুতেই অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলি বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম পর্যালোচনা করে দেশের বাজারে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের দাম নির্ধারণ করা হয়। ইরান-আমেরিকা সংঘাত ও আন্তর্জাতিক মহলে অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে ক্রুড তেলের দাম চড়চড়িয়ে বাড়ছে। গতকাল, বৃহস্পতিবারই বিশ্ব বাজারে ক্রুড তেলের দাম ১.৯৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার হয়। এর প্রভাবেই ভারতেও জ্বালানির দাম বেড়ে গেল।

১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ৯৯৪ টাকা বেড়ে গিয়েছে। নতুন দাম হয়েছে ৩২০২ টাকা। কলকাতাতে এই দাম আজ থেকেই কার্যকর হল। অন্যদিকে, কিছুটা হলেও স্বস্তিতে রয়েছে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলি, কারণ গৃহস্থের বাড়িতে ব্যবহৃত ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়নি। ৯৩৯ টাকাই রয়েছে ১৪.২ কেজি সিলিন্ডারের দাম। ৫ কেজির ছোট যে এলপিজি সিলিন্ডারগুলি ব্য়বহার করা হয়, তার দাম রয়েছে ৩৪৮ টাকা। ১০ কেজির কম্পোজিট এলপিজি সিলিন্ডারের দামও ৬৭১ টাকাই রয়েছে আগের মতো।
Sponsored Ads
Display Your Ads Hereগৃহস্থের বাড়িতে ব্যবহৃত ১৪.২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও, ১৯ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্যবৃদ্ধি পরোক্ষভাবে সাধারণ মানুষের উপরই প্রভাব ফেলতে চলেছে। কারণ, ১৯ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার সাধারণত হোটেল, রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকানে ব্যবহৃত হয়। একধাক্কায় গ্যাসের দাম প্রায় এক হাজার টাকা বেড়ে যাওয়ায়, খাবারের দামও বাড়িয়ে দেওয়া হবে, এমনটাই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের শুরু থেকেই ১৯ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে চলেছে। জানুয়ারি মাসে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৪৯ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল। ফেব্রুয়ারিতে তা আরও ৩১ টাকা বাড়ানো হয়। মার্চ ও এপ্রিল মাসে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ এবং বিশ্ববাজারে অস্থিরতার জেরে যথাক্রমে ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা এবং ২১৮ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছিল। এবার একধাক্কায় প্রায় এক হাজার টাকা বাড়ল গ্যাসের দাম।










