নিজস্ব সংবাদদাতাঃ দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে মঙ্গলকোট, মেদিনীপুর থেকে হাওড়া-হুগলি জেলায় রাজ্যে সরকার বদলের আওয়াজ তুলে শনিবার ‘পরিবর্তন যাত্রা’র আয়োজন করল বিজেপি। তৃণমূলকে ‘টেস্টেড অ্যান্ড রিজেক্টেড’ বলে আক্রমণ করে রাজ্যে দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ সমস্যা, বেকারত্ব নিয়ে সরব হলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে রাজ্যের শীর্ষ নেতারা।

মেদিনীপুর বিভাগে অনুষ্ঠিত পরিবর্তন যাত্রার কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্যে অনুপ্রবেশের সমস্যার কথা তুলে ধরে শমীক বলেন, ‘তৃণমূল সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো না হয়, তা হলে বাঙালিরা নিজেদের রাজ্যেই শরণার্থী হয়ে পড়তে পারেন।’ উল্লেখ্য, শনিবারই রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৫০০ হাজার টাকা ভাতা পাঠিয়েছে সরকার। বেকারত্বের সমালোচনা করে শমীকের বক্তব্য, ‘পশ্চিমবঙ্গের বহু যুবক কর্মসংস্থানের খোঁজে অন্য রাজ্যে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। নিজেদের পরিবারকে রেখে রাজ্য ছাড়ছেন। বিজেপি এই পরিস্থিতি বদলাবে এবং রাজ্যে আবারও সুযোগ ফিরিয়ে আনবে।’

শ্রীরামপুর বিধানসভা এলাকায় একটি রোড শো-তে অংশগ্রহণ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। রাজ্যের অসহযোগিতার কারণেই রেলের বহু প্রকল্প আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘তৃণমূল সরকারকে মূল-সহ উপড়ে ফেলতে হবে এবং ডবল ইঞ্জিন সরকার নিয়ে আসতে হবে। যাতে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি মানুষের প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।’
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ‘পরিবর্তন যাত্রা’র কর্মসূচিতে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, সাংসদ খগেন মুর্মু, কার্তিক পাল, বিধায়ক বুধরাই টুডু-সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। সুকান্ত বলেন, ‘বিজেপি প্রকৃত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামো শক্তিশালী করা এবং পশ্চিমবঙ্গকে উদীয়মান জনবিন্যাসের চ্যালেঞ্জ থেকে সুরক্ষিত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

অন্য দিকে, বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ ঘিরে এ দিন উত্তেজনা ছড়ায় জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়িতে। পরিবর্তন যাত্রার গাড়ি শহরে প্রবেশ করতেই তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় পতাকা হাতে একদল কর্মী-সমর্থক ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তুলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে বলে অভিযোগ। মুহূর্তের মধ্যে এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থলে হাজির হন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ধূপগুড়ি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। ধূপগুড়ি থানার আইসি উৎপল সাহার নেতৃত্বে পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেয়। বাহিনীর তৎপরতায় অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here









