নিজস্ব সংবাদদদাতাঃ ওড়িশাঃ সরকারী অফিসারের বাড়িতে তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ। আলমারী, বিছানার তলায় রাখা ট্রলি ব্যাগ, যাই খোলা হোক না কেন থরে থরে সাজানো নোটের বান্ডিল। ওড়িশার খনি দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর দেবব্রত মোহান্তি ভুবনেশ্বরের ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে এখনো অবধি ভিজিল্যান্স ডিপার্টমেন্ট চার কোটি টাকা উদ্ধার করেছে। এমনকি আরো বেআইনী নগদ উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্রের খবর, দেবব্রতবাবু কটক সার্কলে কাজ করেন। বহুদিন ধরেই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠছিল। সম্প্রতি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও সামনে আসে। দিন কয়েক আগে লাইসেন্সপ্রাপ্ত এক জন কয়লা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ত্রিশ হাজার টাকা ঘুষ নিতে গিয়ে ধরা পড়েন। তদন্তকারীরা জানান, “কোনো বাধা ছাড়া কয়লার ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অনুমোদন স্বরূপ ত্রিশ হাজার টাকা দাবী করেছিলেন।” এরপর থেকে রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখার অফিসাররা দেবব্রতবাবুর কটকের চেম্বার, ভদ্রকের পৈতৃক বাড়ি সহ ভুবনেশ্বরের ফ্ল্যাটে একযোগে তল্লাশি চালায়।

আর এদিন দেবব্রতবাবুর ফ্ল্যাটের ভিতরের আলমারী ও একাধিক ট্রলি খুলতেই দেখা যায় তাতে পর পর নোটের বান্ডিল সাজানো রয়েছে। এছাড়া অফিসের ড্রয়ার থেকে এবং ব্যক্তিগত ঘরে তল্লাশির সময় প্রায় ১.২০ লক্ষ টাকা পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১৩০ গ্রাম সোনা সহ একাধিক মূল্যবান গয়না ও রত্নের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, তার ভুবনেশ্বরে প্রায় দু’ হাজার চারশো বর্গফুট জমির উপর নির্মিত একটি দোতলা বাড়ি রয়েছে। ইতিমধ্যে ভুবনেশ্বর ভিজিল্যান্স থানায় দুর্নীতি প্রতিরোধ (সংশোধন) আইন, ২০১৮-এর ধারা ৭-এর অধীনে দেবব্রত মোহান্তির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তকারী অফিসারদের কথায়, “এর আগে এত পরিমাণ টাকা উদ্ধার হয়নি।”
Sponsored Ads
Display Your Ads Here









