নিজস্ব সংবাদদাতাঃ সিকিমঃ সিকিমের বনাঞ্চলে আগুন জ্বলছে। অতঃপর কার্শিয়াং বন বিভাগ নিজেদের এলাকার জঙ্গল বাঁচাতে ফায়ার লাইনিংয়ে নামল। গত বৃহস্পতিবার থেকে কার্শিয়াংয়ের ডাউহিল এলাকায় এই ফায়ার লাইনিং শুরু হয়েছে।
জঙ্গল লাগোয়া এলাকার পড়ে থাকা শুকনো পাতা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আবার কোথাও শুকনো পাতা জড়ো করে আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। তবুও আগুন আটকানোর জন্য বনকর্মীদের তৈরী করা হচ্ছে। আগুন নেভানোর জন্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি বনকর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আগুন লেগে গেলে বনকর্মীদের নেভাতে গিয়ে প্রবল সমস্যায় পড়তে হয়। ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ায় বনকর্মীদের জন্য বিশেষ পোশাক দেওয়া হয়েছে।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
প্রতিদিন বনকর্মীদের বনাঞ্চলের প্রতিটি কোনা ঘুরে ঘুরে নজরদারীর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে। বনবস্তি ও বনাঞ্চল লাগোয়া এলাকার বাসিন্দারা যাতে আগুন দেখলেই কন্ট্রোল রুমে ফোন করে জানিয়ে দিতে পারেন, সে জন্য বিশেষ টেলিফোন নম্বর খোলা হয়েছে (নম্বর-০৩৫৩-২২৫০৪৫৩)। দার্জিলিং এবং কালিম্পং জেলার সমস্ত বনাঞ্চলের আধিকারিকদেরই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।

কার্শিয়াংয়ের ডিএফও দেবেশ পান্ডে জানান, ”শীতের শেষে ফরেস্ট ফায়ার বনাঞ্চলের জন্য ভীষণ বিপদের ব্যাপার। এজন্য কেবল জঙ্গলের গাছই পোড়ে না, বন্য জীবজন্তুর প্রাণসংশয় হতে পারে। সবচেয়ে বড়ো কথা, জঙ্গলে নানা ধরণের কীটপতঙ্গ থাকে, যার অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়ে। সেই কারণেই সমস্ত ধরণের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
বন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ফরেস্ট ফায়ার ঠেকাতে নেওড়া ভ্যালি, কালিম্পং বনাঞ্চল, সিঞ্চল, সিঙ্গালিলা ও মহানন্দা অভয়ারণ্যেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এবছর সিকিম ফরেস্ট ফায়ারে নাজেহাল হলেও গত বছরে দার্জিলিং এবং কালিম্পংয়ে এই পরিস্থিতি হয়। বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া আগুনের জেরে শিলিগুড়ি শহরের বাসিন্দাদেরও বিপাকে পড়তে হয়। সন্ধ্যে নামলেই গোটা শহর ধোঁয়ায় ঢেকে যেত। ফলে বয়স্কদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা বেড়ে যায়। বৃষ্টি না হওয়াতেই এই সমস্যা সৃষ্টি হয়।

উল্লেখ্য, গত নভেম্বর মাস থেকেই সিকিম ও উত্তরবঙ্গের দুই পাহাড়ি জেলা বৃষ্টিহীন হয়ে পড়েছে। ঝোরার জল কমে যাওয়ায় পাহাড়ি জনপদগুলিতে পানীয় জলের সঙ্কট সৃষ্টি হচ্ছে। আর ফরেস্ট ফায়ারের আতঙ্ক শুরু হচ্ছে। জিটিএর তরফে ঝোরা সংস্কার শুরু হয়েছে। হিমালয়ান নেচার অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর অনিমেষ বসু বলেন, ”বনাঞ্চলে আগুন ঠেকাতে হলে ফায়ার লাইনিংই একমাত্র উপায়। গত তিন মাস ধরে বৃষ্টি নেই। ফলে সিকিমের ঘটনার পরে দ্রুত এই কাজে দার্জিলিং এবং কালিম্পং জেলার সমস্ত বনকর্মীদের নামানো দরকার।”
Sponsored Ads
Display Your Ads Here










