ব্যুরো নিউজঃ ওমানের সোহর শহরে ইরানি ড্রোন হামলায় মৃত্যু হলো দুই ভারতীয় নাগরিকের। এই ঘটনায় আরও দশজন ভারতীয় আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে এই প্রথম স্থলভাগে এই যুদ্ধের বলি হলেন কোনও ভারতীয়। এর আগে এক বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলায় তিনজন ভারতীয় নাবিকের প্রাণ গিয়েছিল। এদিন দু’টি ইরানি ড্রোন সোহর শহরের শিল্পাঞ্চলে আছড়ে পড়ে। এর মধ্যে একটি ড্রোন ‘আল আওহি ইন্ডাস্ট্রিয়াল জ়োন’-এ পড়েছিল সেখানেই হতাহত হন এই ভারতীয় নাগরিকরা।

নয়াদিল্লিতে বিদেশ মন্ত্রকের এক সাংবাদিক বৈঠকে মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব (পারস্য উপসাগরীয়) অসীম মহাজন জানিয়েছেন, নিহত দুই ভারতীয়ের একজনের বাড়ি মহারাষ্ট্রের রত্নগিরি জেলায়, অন্যজন কেরালার তিরুবনন্তপূরমের বাসিন্দা। এই ঘটনায় আহত ১১ জনের মধ্যে ১০ জনই ভারতীয়। বাকি একজন অন্য দেশের নাগরিক। স্থানীয় এক হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। আহতদের কারও আঘাত গুরুতর নন। তাঁদের প্রত্যেকেরই শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসন ও ওই ভারতীয় নাগরিকদের নিয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাঁদের সব রকম সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জসওয়ালও এই খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি মৃতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, পরিস্থিতির উপরে ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে নয়াদিল্লি। ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেশী দেশগুলির অসামরিক অঞ্চলে ইরানের এই ড্রোন এবং মিসাইল হামলা পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
নয়াদিল্লি এই ঘটনার তদন্ত চেয়েছে। ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য কূটনৈতিক স্তরে আলোচনাও শুরু করা হয়েছে। নয়াদিল্লি ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার ভিত্তির উপরে প্রতিষ্ঠিত বলে এ দিনই জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত। কিন্তু তাদের ড্রোন হামলায় ভারতীয় নাগরিকদের মৃত্যুর পরে এই সম্পর্ক কড়া পরীক্ষার মুখে পড়ল। যদিও ইরানের তরফে ভারতীয় জাহাজগুলিকে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে চলার জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে এই হামলা সব অঙ্ক উল্টে দিতে পারে বলে শঙ্কিত আত্নর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।










