চয়ন রায়ঃ কলকাতাঃ কি ভয়ানক কাণ্ড! উত্তর চব্বিশ পরগণার গাইঘাটা থেকে জুলফিকার মণ্ডল নামে এক ভুয়ো চিকিৎসকের খোঁজ মিলেছে। যিনি জাল রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে এতদিন চিকিৎসা চালাচ্ছিলেন। রেজিস্ট্রেশন নম্বর- ৮৯০২১ (ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলের ভুয়ো নম্বর বলে অভিযোগ)। অন্যদিকে, এই একই চক্রে পূর্ব বর্ধমানের তালিতের শেখ সাইদুর হক (রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৮০১৯৮) নামের আরো এক জন ভুয়ো ডাক্তারের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে।

জুলফিকার মণ্ডল ও শেখ সইদুলের দাবী, “২০০৭ সালে তারা বিহারের মুজফ্ফরপুরের শ্রীকৃষ্ণ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেছেন।” কিন্তু বিহার মেডিকেল কাউন্সিলের জাল রেজিষ্ট্রেশন সার্টিফিকেট নিয়ে এই রাজ্যের মেডিকেল কাউন্সিল থেকে আসল রেজিষ্ট্রেশন সার্টিফিকেট নিয়েছেন। এদের মধ্যে জুলফিকার মণ্ডলের উত্তর চব্বিশ পরগণার কাজীপাড়ায় একটি নার্সিং হোম রয়েছে। পাশাপাশি নিউটাউনের একটি ক্লিনিকের এস্থেটিক সার্জন হিসেবে চিকিৎসা করতেন। আবার শেখ সইদুল বর্ধমানের ছাব্বিশটি হাসপাতালে রীতিমতো প্রাকটিস করতেন। দীর্ঘদিন থেকে দু’জনের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠেছিল। সম্প্রতি বর্ধমানের নবাবহাটের একটি বেসরকারী নার্সিংহোমে চার বছরের এক শিশুর অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

সেই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। এরপর সন্দেহ হওয়ায় প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিং হোম অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারী রাজীব পাণ্ডে বিহার মেডিকেল কাউন্সিলকে চিঠি পাঠায়। তবে বিহার মেডিকেল কাউন্সিলের তরফে জানানো হয় যে ওই সার্টিফিকেট পুরোপুরি ভুয়ো। প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিং হোম অ্যাসোসিয়েশনের (APSHA) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “প্রায় দশ লক্ষ টাকার বিনিময়ে এই ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন নম্বরগুলো আদায় করা হয়েছিল। এর পেছনে একটি বড়ো চক্র কাজ করছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগ এবং মেডিকেল কাউন্সিলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবী জানানো হয়েছে।”
Sponsored Ads
Display Your Ads Here









