চয়ন রায়ঃ কলকাতাঃ ২০২৬ সালের নির্বাচনকে লক্ষ্য রেখে আজ তৃণমূলের ইস্তেহার প্রকাশ হলো। যার নাম ‘প্রতিজ্ঞা’। এবারও রাজ্যবাসীর কাছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একগুচ্ছ ‘প্রতিজ্ঞা’ রয়েছে। এদিন ইস্তাহারে দশটি অঙ্গীকারের উল্লেখ করা হয়েছে। যেখানে শিক্ষা, শিল্প, চাকরী সহ আবাস, লক্ষ্মী থেকে বেকার ভাতা সব সামাজিক প্রকল্পে জোর দেওয়া হয়েছে। আর সেখানেই দুয়ারে চিকিৎসার কথাও উঠে এসেছে। সমস্ত গ্রাম-বাংলার মানুষকে বাড়িতে পৌঁছে পরিষেবা দিতেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এদিন ইস্তেহারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “দুয়ারে চিকিৎসা করব। আগে যেমন দুয়ারে সরকার পরিষেবা দেওয়া হয়েছে, সেটা চলবে। প্রতি ব্লকে ব্লকে দুয়ারে মেডিক্যাল ক্যাম্প হবে। প্রত্যেকের কাঁচা বাড়ি পাকা করে দেব, এটা আমাদের অঙ্গীকার। বিধবা ভাতা ও বয়স্ক ভাতা বাকি আছে। একটা সার্ভে চলছে। যেগুলি বাকি আছে, সেগুলি করে দেওয়া হবে।” এছাড়া জানানো হয়েছে, “আবাস যোজনায় এক কোটি কুড়ি লক্ষ বাড়ি করা হয়েছে। দু’ লক্ষ বাড়িয়ে পানীয় জল পৌঁছাত, এখন সেই সংখ্যা এক কোটি করা হয়েছে।”

তৃণমূল কংগ্রেসের ইস্তেহারের প্রতিশ্রুতি- ১) লক্ষ্মীর জয়, স্বনির্ভরতা অক্ষয়ঃ বাংলার মা-বোনেদের স্বনির্ভর করতে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প চালু করেছিল সরকার। সম্প্রতি মাসিক আর্থিক সহায়তা আরও ৫০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে ১,৫০০ টাকা (বার্ষিক ১৮,০০০ টাকা) এবং তফসিলি জাতি ও জনজাতিভুক্ত মহিলারা মাসে ১,৭০০ টাকা (বার্ষিক ২০,৪০০ টাকা) করে সরাসরি সহায়তা পান। এই প্রকল্প চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here২) যুবদের পাশে, জীবিকার আশ্বাসেঃ ‘বাংলার যুব-সাথী’ প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের জীবিকাহীন যুবক-যুবতীদের মাসে ১,৫০০ টাকা (বার্ষিক ১৮,০০০ টাকা) করে আর্থিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে। যুবকদের আর্থিক সহায়তা প্রদান ও কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যমে বেকারত্ব কমানোর প্রতিশ্রুতি।
৩) বাজেটে কৃষি, কৃষকের হাসিঃ কৃষক পরিবারগুলির সার্বিক কল্যাণ ও ভূমিহীন কৃষকদের কথা মাথায় রেখে ৩০,০০০ কোটি টাকার এক বিশেষ ‘কৃষি বাজেট’ রূপায়ণের সংকল্প করা হয়েছে।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here৪) নিশ্চিন্ত বাসস্থান, চিন্তার অবসানঃ বাংলা আবাস যোজনা প্রকল্পের অধীনে পাকা বাড়ি করে দেওয়ার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আবাস যোজনায় ১ কোটি ২০ লক্ষ বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। যে সব বাড়ি তৈরি বাকি আছে, সেটাও হবে। আমরা প্রত্যেকের কাঁচা বাড়ি পাকা করে দেব, এটা আমাদের অঙ্গীকার।’
৫) ঘরে ঘরে নল, পরিশ্রুত পানীয় জলঃ পূর্বতন সরকারের আমলে ২ লক্ষ মানুষের বাড়িতে পানীয় জল পরিষেবা যেত। বর্তমান সরকারের আমলে সেই সংখ্যা কয়েক কোটি। নির্বাচনে জেতার পরে রাজ্যের প্রতিটি ঘটে পানীয় জল পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here৬) সুস্বাস্থ্যের অধিকার, বাংলার সবারঃ স্বাস্থ্য পরিষেবা এ বার পৌঁছে যাবে ঘরে ঘরে। প্রতিটি ব্লক ও টাউনে প্রতি বছর সরকার আয়োজন করবে ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ শিবির, যাতে হাতের নাগালেই আপনারা পাবেন উন্নতমানের স্বাস্থ্য পরিষেবা।
৭) শিক্ষাই সম্পদ, ভবিষ্যৎ নিরাপদঃ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিশ্বমানের শিক্ষায় শিক্ষিত করতে ‘বাংলার শিক্ষায়তন’ প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্কুলের সামগ্রিক পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করতে তৃণমূল সরকার বদ্ধপরিকর। মমতা জানান, রাজ্য জুড়ে কয়েক হাজার সরকারি স্কুল নতুন মডেলে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি, স্কুলের জন্য নতুন শিক্ষক নিয়োগ করা হবে।
৮) পূর্বের বাণিজ্যের কাণ্ডারী, বাংলায় দিশারীঃ পূর্ব ভারতের বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বাংলাকে গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ। বিশ্বমানের লজিস্টিকস, বন্দর, বাণিজ্যিক পরিকাঠামো এবং একটি অত্যাধুনিক গ্লোবাল ট্রেড সেন্টার তৈরির মাধ্যমে বাংলাকে বিনিয়োগ ও ব্যবসার শ্রেষ্ঠ গন্তব্য করে তোলা হবে।
৯) প্রবীণদের পাশে, যত্নের আশ্বাসেঃ প্রবীণ নাগরিকদের সুরক্ষা সরকারের পবিত্র কর্তব্য। বর্তমান সকল উপভোক্তার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বার্ধক্য ভাতার সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি, ধীরে ধীরে এই ভাতার সুরক্ষা পরিধিকে আরও সম্প্রসারিত করে সকল যোগ্য প্রবীণ নাগরিককে এর আওতায় নিয়ে আসা হবে।
১০) এ ছাড়াও সাধারণ মানুষের কাছে প্রশাসনকে আরও নিবিড়ভাবে পৌঁছে দিতে ৭টি নতুন জেলা তৈরি করা হবে এবং সামগ্রিক ভৌগোলিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে পুরসভার সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।










