মিনাক্ষী দাসঃ উত্তর চব্বিশ পরগণাঃ আজ উত্তর চব্বিশ পরগণার মিনাখাঁ এলাকায় কলকাতা-বাসন্তী হাইওয়েতে অটো ও প্রাইভেট কারের মুখোমুখি ধাক্কায় তিন জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে দু’জনের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে আরো এক জনের মৃত্যু হয়। আর ১০ জন আহত হয়েছেন। তবে এখনো মৃতদের পরিচয় জানা যায়নি। এই ঘটনাকে ঘিরে শোরগোল পড়ে যায়। দুঘটনার তীব্রতায় পথচলতি মানুষ রীতিমতো আঁতকে ওঠেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকালবেলা রাস্তা তুলনামূলক ভাবে ফাঁকা থাকায় গাড়িগুলি দ্রুত গতিতেই যাচ্ছিল। তখনই মিনাখাঁ গ্রামপঞ্চায়েত অফিস সংলগ্ন এলাকায় একটি যাত্রীবাহী অটো এবং একটি প্রাইভেট গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হতেই অটোটি একেবারে দুমড়ে মুচড়ে যায়। আবার লাল রঙের প্রাইভেট গাড়িটিও তুবড়ে যায়। মিনাখাঁ থানার পুলিশ সহ ওই এলাকায় ডিউটিতে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা খবর পেয়ে দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে মিনাখাঁ গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে এক জনের মৃত্যু হয়। এদিকে, প্রাথমিক চিকিৎসার পর আহতদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় ।

আপাতত মৃতদেহগুলি বসিরহাট জেলা হাসপাতালের পুলিশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এরপর পুলিশ দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ি দু’টি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। আর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে। অন্যদিকে, মিনাখাঁ বিধানসভা কেন্দ্রের আইএসএফ প্রার্থী প্রতীক মণ্ডল এই দুর্ঘটনার এই ঘটনার কথা জানতে পেরেই মিনাখাঁ হাসপাতালে মৃত ও আহতদের পরিজনদের সাথে দেখা করতে যান। আর এই মর্মান্তিক ঘটনাকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক আখ্যা দিয়ে জানান, “সাতসকালের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার করছি এবং তাদের সবরকম প্রয়োজনীয় সাহায্যের চেষ্টা করব।”
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
এর পাশাপাশি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাসন্তী হাইওয়েতে বেপরোয়া গতির কারণে বারবার এমন প্রাণহানি ঘটছে কেন? তা নিয়ে প্রশাসনের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করবেন যাতে দ্রুত গতির ওপর নিয়ন্ত্রণ আনা যায়। অন্যদিকে, হিঙ্গলগঞ্জের বরুণহাট এলাকায় অন্য একটি দুর্ঘটনায় ট্রাকের ধাক্কায় এক জন বাইক আরোহীর মৃত্যু হয়। দীর্ঘদিন থেকে এলাকাবাসীদের অভিযোগ, “দীর্ঘদিন ধরেই বাসন্তী হাইওয়েতে বেপরোয়া গাড়ি চলাচলের কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে। তারপরেও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।”











