চয়ন রায়ঃ কলকাতাঃ তারাতলায় একটি কারখানার শেড ভেঙে বিপত্তি। ভেঙে পড়ে লোহার বিম, টিন। আহত হয়েছেন একাধিক। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কারোর হাত থেঁতলে গিয়েছে, কারোর মাথা। অনেকেরই অবস্থাই আশঙ্কাজনক। অসমর্থিত সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ৪ থেকে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৪০-৪৫ জন ভিতরে আটকে রয়েছেন বলে খবর। গ্যাস কাটার এনে লোহার বিম কেটে উদ্ধারকার্য চালাচ্ছে দমকল। দমকল কর্মীদের সহায়তায় স্থানীয় বাসিন্দারাও। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, অনেকেই আটকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

ব্রেস ব্রিজের কাছে ওই এলাকাটি মূলত ৮০ নম্বর ওয়ার্ড আনোয়ার খানের এলাকায় পড়ে। জমিটি পোর্ট ট্রাস্টের। বন্দর কর্তৃপক্ষের থেকে জমি লিজ নিয়েছিল আলিপুরদুয়ারের ব্যবসায়ী। চায়ের গোডাউন বানানোর কাজ চলছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, মঙ্গলবার সকালেও অনান্য দিনের মতো কাজ চলছিল। ঘটনার আধ ঘণ্টা আগেই লোহার বিম নড়ে যায়, কয়েকটা জায়গায় ভেঙে পড়ে। সেসময়ে সেটা কোনওভাবে ঠিক করে শেডের নীচে ভিতরে ঢুকে আবার গোটা ‘সেট-আপ’ দাঁড় করানোর চেষ্টা করছিলেন কর্মীরা। তখনই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে গোটা টিনের শেড।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানাচ্ছেন, “ভিতরে অনেকেই আটকে থাকার কথা। কারণ সকলে ভিতরেই ছিলেন। একটা ছোট্ট অফিস করা হয়েছিল, সেখান থেকে কাজ পরিচালনা করা হত। লেবাররা ছিলেন। অনেকে এমনিই বসে ছিলেন। কাজ তো চলছিল। ওতটা বড় জায়গা জুড়ে গোডাউন, পুরোটাই ভেঙে পড়েছে।” আরেক বাসিন্দা বলেন, “এটা পুরনো একটা কোম্পানির গোডাউন ছিল। অক্টোবিয়াস টি অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির। এটা ছেড়ে দেন। তারপর পোর্টের কাছ থেকে মেসার্স বেহেরা সেটা নিয়েছেন। এখানে চায়ের গোডাউন তৈরি হচ্ছিল। সবে তিনটে ফ্লোর তুলে ঢালাই দেওয়ার চেষ্টা করছিল। তার জন্যই টিনের শেড বানানো হচ্ছিল। টিনের শেডটা সাপোর্ট হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।”
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন রাকেশ সিং। তিনি বলেন, “পোর্ট ট্রাস্ট চেয়ারম্যান থেকে লিজ নিয়েছিলেন শম্ভু বেরা বলে একজন। কী বানানো হচ্ছিল, কী সিকিউরিটি ছিল, সেটা জানি না। তবে ৫০-৬০ জন শ্রমিক এর মধ্যে রয়েছেন।” আপাতত ক্রেন এনে লোহার বিম কেটে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। লোহার বিমের নীচে পিষ্ট হয়ে গিয়েছে একাধিক শরীর। পা-হাতা, কোথা মাথা থেঁতলে গিয়েছে। যে দৃশ্য ধরা পড়ে, তা রীতিমতো বিচলিত করার মতো। পা কেটে লোহার বিমে ঝুলছে।

এদিকে, অগ্নিমিত্রা পাল, ইন্দ্রনীল খাঁ, রয়েছেন কলকাতা পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। TMC কাউন্সিলর সেখানে পৌঁছতেই তাঁকে ধাক্কা মেরে বের করে দেওয়া হয়। জানা যাচ্ছে, দেড় বছর ধরে নির্মাণকাজ চলছিল। আর তাতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত ৮০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনোয়ার খান ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ বলে একাংশের দাবি। ড্রোন উড়িয়ে চলছে উদ্ধারকাজ।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
বিকাল সাড়ে চারটের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে জানান, এখনও পর্যন্ত ১২-১৮ জন ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকতে পারেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সাথে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, ইন্দ্রনীল খাঁ, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ও উপস্থিত হন। পাশাপাশি নবান্নে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। ০৩৩-২২১৪৩৫২৬, ০৩৩-২২৫৩৫১৮৫,

প্রসঙ্গত, এই জমিটি পোর্ট ট্রাস্টের ছিল। মেসার্স বেহারা ব্রাদার্স জমি লিজ নেয়। ৩০ বছরের জন্য ৬,৬৯৮ বর্গমিটার এলাকা বন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে নেওয়া হয় লিজ। ওই জমিতে গুদাম, কোল্ড স্টোরেজ বানানোর পরিকল্পনা ছিল। জানা যাচ্ছে, ২০২৪ সালে ১ অগস্ট বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মেসার্স বেহেরা ব্রাদার্সের চুক্তি হয়। এরপর অয়ন ট্রেডার্সকে দেওয়া হয় নির্মাণের দায়িত্ব। জানা যাচ্ছে, ৬ বার ওই জমির ওপর গোডাউন নির্মাণের চেষ্টা হয়েছে। ফলে মাটি নরম হয়ে যায়। ভিত মজবুত না হওয়াতেই ভেঙে পড়ে গোডাউন। পাশাপাশি নির্মাণ সামগ্রীর মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here









