অনুপ চট্টোপাধ্যায়ঃ কলকাতাঃ কার্শিয়াংয়ের বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা বিজেপি নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করে দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে দল কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করেনি। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে তৃণমূলে যোগদান করলেন। গত বিধানসভায় বিজেপির টিকিটে লড়ে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। আজ রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও শশী পাঁজার উপস্থিতিতে জোড়াফুলের পতাকা হাতে তুলে নেন তিনি। তৃণমূলে যোগদান করে বিষ্ণুপ্রসাদ বলেন, ‘‘টিকিটের জন্য তৃণমূলে যোগদান করিনি। দল টিকিট না দিলেও কোথাও যাব না।’’

বিধানসভা ভোটের আগে পাহাড় রাজনীতির নিরিখে বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মার তৃণমূলে যোগদান রাজনৈতিক ভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই নেতার পাহাড়ে পোক্ত ভিত রয়েছে। অন্যদিকে, গত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বলছে, পদ্ম শিবিরের অন্যতম ভরসার জায়গা পাহাড়। গত কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন সময়ে বেসুরো হয়েছেন বিষ্ণুপ্রসাদ। তাঁর অভিযোগ ছিল, বিজেপি মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পাহাড়ের মানুষকে। গত লোকসভা নির্বাচনে দার্জিলিং কেন্দ্র থেকে রাজু বিস্তাকে প্রার্থী করেছিল BJP। আর দলের এই সিদ্ধান্তকে মান্যতা না দিয়ে বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা নিজেও লোকসভা নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন।

এদিন তৃণমূলের পতাকা হাতে নিয়ে তিনি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগে সরব হন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা দলের সমস্ত নীতিই তিনি অনুসরণ করবেন, তা ফের একবার স্পষ্ট করে দেন। দলনেত্রীর ঘোষিত আদর্শ মেনে গোর্খাল্যান্ড নিয়ে তাঁর পূর্বের অবস্থান থেকে সরে আসার কথাও প্রকারান্তে বুঝিয়ে দেন তিনি। বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘গত কয়েক বছর ধরেই বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। তিনি পাহাড়ের মানুষের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছেন। এই ধরণের বিশ্বাসঘাতকদের জায়গা তৃণমূলেই হয়।’’
Sponsored Ads
Display Your Ads Here









