নিজস্ব সংবাদদাতাঃ মুম্বইঃ আবারও বিপাকে অনিল আম্বানী। বুধবার ইডি (এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট) মুম্বইয়ের পালি হিলে তাঁর ৩,৭১৬ কোটি টাকার বিলাসবহুল বাড়ি বাজেয়াপ্ত করল। আর্থিক জালিয়াতি মামলায় রিলায়েন্স গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে বিশেষ টিম গঠন করে তদন্ত চলছে। সেই মামলাতেই তাঁর এই বাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে খবর। একই সঙ্গে আগামী কাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

মুম্বইয়ের অভিজাত এলাকা পালি হিল। এখানেই রয়েছে অনিল আম্বানির ১৭তলার বিলাসবহুল বাড়ি ‘অ্যাডোব’। অনিলের সংস্থার বিরুদ্ধে বেনিয়মের তদন্তে নেমে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার জন্য গত বছরেই চারটি নির্দেশিকা জারি করেছিল ইডি। এর মধ্যে পালি হিল এলাকার এই বাড়িটিও ছিল। এ দিন প্রিভেনশনস অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্টের আওতায় বাড়ির নামে প্রভিশনাল অ্যাটাচমেন্ট অর্ডার জারি করল ED। পাশাপাশি অনিলকে দ্বিতীয় দফার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সমন পাঠিয়েছেন ED-র তদন্তকারীরা।

বৃহস্পতিবার তাঁকে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সদর দপ্তরে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত বছরের অগস্টে ইডি-র তদন্তকারীদের সামনে জবানবন্দি দিয়েছিলেন তিনি। ইতিমধ্যেই রাজধানী দিল্লি, নয়ডা, গাজ়িয়াবাদ, পুনে, মুম্বই, ঠানে, হায়দরাবাদ, চেন্নাই এবং অন্ধ্রপ্রদেশের পূর্ব গোদাবরী জেলায় অনিলের বেশ কিছু সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে ED। দিল্লিতে মহারাজা রণজিৎ সিংহ মার্গে ‘রিলায়্যান্স সেন্টার’-এর একটি জমিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল গত বছরেই। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত অনিল আম্বানির মোট ১৫,৭০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
উল্লেখ্য, ২০০৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইয়েস ব্যাঙ্কের থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ নেওয়ার সময়ে অনিল আম্বানির সংস্থা কোনও নিয়ম মানেনি বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, ঋণ মঞ্জুর হওয়ার আগে ব্যাঙ্কের কয়েক জন কর্তার অ্যাকাউন্টে মোটা টাকা পৌঁছে গিয়েছিল বলেও তদন্তে জানতে পেরেছে ইডি। SBI-সহ দেশের একাধিক ব্যাঙ্কও তাঁর সংস্থার বিরুদ্ধে আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ এনেছে। প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকার এই ঋণ জালিয়াতি মামলায় ইডির পাশাপাশি সিবিআইও (সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন) তদন্ত চালাচ্ছে।










