চয়ন রায়ঃ কলকাতাঃ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা চোরবাগান সর্বজনীন পুজোয়। পদপিষ্ট হয়েছেন একাধিক। তাদের মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৭ বছর বয়সী শ্রীপর্ণা পোদ্দার নামে একজনের পরিচয় সামনে এসেছে। আর ১৫ জন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। একাধিক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা থেকে দর্শনার্থী সকলে পুজো উদ্যোক্তা ও পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন।

এক দর্শনার্থী বলেন, “মণ্ডপের একাংশ ভেঙে পড়েছে শুনেছে। নিজের প্রাণ বাঁচাতে সবাই দৌড়তে শুরু করেছিলেন। পড়ছেন, আর পদপিষ্ট হয়েছেন। আর মারা গিয়েছেন।” স্থানীয় এক বাসিন্দার দাবি, ‘এখানে পাঁচজন পড়েছিল।’ এখানে ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে দর্শনার্থীরাও। এক জন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এখানে হাজার হাজার ভলান্টিয়র, পুলিশ ছিল। কিন্তু কোনও ব্যবস্থাই প্রথমে নেওয়া হচ্ছিল না। এত বড় ঘটনা ঘটছে. চোখের সামনে দেখছে। কলকাতা পুলিশের গাড়ি দাঁড়িয়েছিল, পুলিশ কিছু করেনি। আমরা লোকালরাই করে গিয়েছি। পুজো কমিটির কোনও লোককেই দেখা যায়নি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, এত বড় পুজো হচ্ছে কোনও অ্যাম্বুলেন্স ছিল না সেখানে।

এলাকায় পুজো বলে, স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ির সামনের রাস্তা ফাঁকা করা হয়েছিল। পাড়ার বাসিন্দাদের যে নিজস্ব গাড়িগুলো দাঁড়িয়ে থাকত, সেগুলোও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এলাকাবাসীর বক্তব্য, “যদি সেই গাড়ি গুলোও থাকত, তাহলে অন্ততপক্ষে ১০ জনকে বাঁচানো যেত। শুধু ভিআইপি, গেস্টদের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য নয়।” এদিকে চোরবাগান সর্বজনীনের উদ্যোক্তা প্রীতম সরকার বলেন, “বৃষ্টিটা যখন শুরু হল, বেশি মাত্রায় লোক ভিতরে ঢুকে গিয়েছিল। একসঙ্গে নির্দিষ্ট সংখ্যক লোককেই ভিতরে ঢোকার মতো ব্যবস্থা করা হয়েছিল। চাপে মণ্ডপের একটা অংশ ভেঙে পড়ে। ফোনে যতটুকু শুনেছি চার পাঁচ জন আহত হয়েছেন।”
Sponsored Ads
Display Your Ads Here









