নিজস্ব সংবাদদাতাঃ নয়া দিল্লিঃ এবার অতিরিক্ত পেনক্লিয়ার বা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার উপর নির্দেশিকা জারি করে অবিলম্বে এই অভ্যাস ত্যাগ করার বার্তা দিল কেন্দ্র। সোমবার ‘ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া’ (ডিসিজিআই) রাজীব সিং রঘুবংশীর সই করা ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, অতিরিক্ত পরিমাণে পেনকিলার বা অ্যান্টিবায়োটিক খেলে কিডনির গুরুতর অসুখের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

সামান্য জ্বর, সর্দি-কাশি বা সাধারণ ভাইরাল ইনফেকশন হলেই আজকাল অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। ব্যথা কমানোর ওষুধের ক্ষেত্রেও বিষয়টা তাই। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই এই ধরনের ওষুধ কেনা হয়। এই প্রবণতাই বন্ধ করার বার্তা দিয়েছে কেন্দ্র। সরকার জানিয়েছে, বার বার জ্বর হলে বা ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে যেন নিজে থেকে ওষুধ কেনার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া হয়। যাঁরা ইতিমধ্যেই কিডনির সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের আরও বেশি করে সতর্ক করেছে কেন্দ্র। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ডাক্তার ওষুধ লিখে দেওয়ার আগে তাঁর কাছে কিডনির সমস্যার কথা জানাতে হবে। যাতে তা মাথায় রেখেই ওষুধ দেওয়া হয়।

ডাক্তারদের উদ্দেশ্যেও কেন্দ্রের নির্দেশ, খুব প্রয়োজন হলে তবেই পেনকিলার বা অ্যান্টিবায়োটিক লিখতে হবে। রোগীর বয়স, বর্তমান শারীরিক অবস্থা এবং অন্য অসুখের কথা বিবেচনা করেই যাবতীয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে ডাক্তারদের। আর যাঁদের ক্ষেত্রে কিডনির অসুখের ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের সবচেয়ে কম ডোজ়ের ওষুধ দিতে হবে। সেই ওষুধ যাতে একেবারে কম সময়ের মধ্যেই দেওয়া হয়, সেটাও দেখতে হবে। ওষুধের দোকানের কেমিস্টদেরও এ ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। তাঁরা যেন ক্রেতাদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এই ওষুধ কেনা যাবে না।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
পাশাপাশি সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সরকারকে এ ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রচারও চালাতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন চিকিৎসকদের একাংশ। হায়দরাবাদের অ্যাপোলো হাসপাতালের নিউরোলজিস্ট সুধীর কুমার বলেন, ‘অ্যান্টিবায়োটিক এবং পেনকিলার নিয়ে এই সিদ্ধান্ত সঠিক। কারণ এই ওষুধের বিস্তর অপব্যবহার হয়। এর ফলে অ্যালার্জি তো হয়ই, কিডনি-লিভারেরও ভীষণ ক্ষতি হতে পারে। যাঁদের কিডনি বা লিভার পুরোপুরি সুস্থ, তাঁদেরও ক্ষতি হতে পারে।’










