নিজস্ব সংবাদদাতাঃ মালদাঃ বিজেপির উত্তর মালদা সাংগঠনিক জেলা সাধারণ সম্পাদক রূপেশ আগরওয়াল। বেধড়ক মারধর করে তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার রাতে মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর সদর এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। বিজেপির অভিযোগ, রাজ্যে পালাবদলের পরে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের তাঁদের দলে যোগদানে বাধা দেওয়ার কারণেই তাঁর উপর হামলা হয়েছে। যদিও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র শুভময় বলেন, ‘বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দলের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে।’ এই ঘটনায় বিজেপির একাংশ জড়িত বলে দাবি করেছেন রূপেশের ঘনিষ্ঠরাও।

বিজেপি সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রাতে হরিশ্চন্দ্রপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বাজারের একটি দোকানে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে রুটি-তড়কা খাচ্ছিলেন রূপেশ। অভিযোগ, সেই সময়ে পিছন দিক থেকে এসে তাঁর উপর হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। রূপেশের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজন এমন ছিলেন, যাঁরা আবার সদ্য তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তাঁরা রূপেশকে দোকান থেকে টেনেহিঁচড়ে বার করে এনে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করেন। তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। চিৎকার-চেঁচামেচিতে পরে স্থানীয়েরা ছুটে এলে সেখান থেকে পালায় দুষ্কৃতীরা। রূপেশকে রক্তাক্ত অবস্থায় হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেই খবর হাসপাতাল সূত্রে।

রূপেশের অনুগামীদের দাবি, যে সব তৃণমূল নেতা এত দিন জমি দখল, তোলাবাজি করে এলাকায় সন্ত্রাস ছড়িয়েছেন, ক্ষমতার পালাবদলের পরে এখন তাঁরা বিজেপিতে যোগ দিতে চাইছেন। কেউ কেউ দলে যোগ দিয়েওছেন। এই যোগদান নিয়েই দলের মধ্যে তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন রূপেশ। তাতে অনেকে ক্ষিপ্ত হয়ে এই হামলা করিয়েছে। কারও কারও রূপেশের বিরুদ্ধে পুরনো আক্রোশও ছিল বলে দাবি করেছেন অনুগামীরা।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
রূপেশের ঘনিষ্ঠ মহলেরই অভিযোগ, ঘটনার নেপথ্যে বিজেপির জেলা যুব মোর্চার সহ-সভাপতি মনোজ দাসের প্রশ্রয় রয়েছে। এই বিষয়ে তাঁরা একাধিক বার দলকে সতর্কও করেছেন। অভিযোগ, মনোজের কারণে আগেও তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা দলে ঢুকতে চেয়েছিলেন। এই প্রবণতা বন্ধ না হলেও আখেরে দলের ক্ষতি হবে বলেই দাবি রূপেশের অনুগামীদের। তাঁরা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। অশান্তির ঘটনার পর থেকেই হরিশ্চন্দ্রপুর সদর এলাকায় পুলিশি টহলদারি শুরু হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এলাকায়।










