অনুপ চট্টোপাধ্যায়ঃ কলকাতাঃ সল্টলেকের করুণাময়ীর কাছে আনন্দলোক হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। ওই বেসরকারি হাসপাতালের দোতলায় আগুন লেগে গিয়েছে বলে খবর। ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছে গোটা হাসপাতাল। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে দমকলের চারটি ইঞ্জিন। বিপদ এড়াতে রোগীদের দ্রুত বাইরে বার করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। রোগীদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য দমকলকর্মীদের সঙ্গে হাত লাগিয়েছেন হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীরাও।

প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, হাসপাতালের দোতলায় রয়েছে অপারেশন থিয়েটার। সেখানেই লেগেছে আগুন। অপারেশন থিয়েটারের পাশে থাকা ক্যাথ ল্যাবের এসির শর্ট সার্কিট হওয়ায় আগুন লাগে।। ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় একাধিক ওয়ার্ড, ফলে আতঙ্ক ছড়ায় রোগী ও তাঁদের পরিজনদের মধ্যে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রথমে হাসপাতালের দোতলায় ধোঁয়া দেখেই আতঙ্ক ছড়ায়। পরে হাসপাতালের দোতলার একটি অংশের জানলা দিয়ে ভিতরে দাউ দাউ করে আগুনও জ্বলতে দেখা যায়। আগুনের লেলিহান শিখা দেখেই অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা সহজেই অনুমেয়।

অপারেশন থিয়েটারের সামনে ধোঁয়া দেখেই খবর দেওয়া হয়েছিল দমকলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। হাসপাতালের ভিতরে কোনও রোগী আটকে আছেন কি না তাও খতিয়ে দেখছেন তাঁরা। হাসপাতালে আগুন লাগার ঘটনায় রোগী ও রোগীর পরিবারের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যদিও হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সমস্ত রোগীকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুল্যান্সে করে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার সময়ে হাসপাতালে কমপক্ষে ৭০-৭২ জন রোগী ছিলেন। প্রত্যেকেই এখন নিরাপদে রয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
যদিও কয়েক জন রোগীর পরিবারের অভিযোগ করেছেন, তাঁদের রোগীর অবস্থা তেমন সিরিয়াস না হওয়ায় ,তাঁদের হাসপাতালের বাইরেই বসিয়ে রাখা হয়েছে। বহু রোগীকে স্যালাইন হাতে নিয়েই রাস্তায় বসে থাকতে দেখা যায়। পাশের একটি ভবনে অস্থায়ীভাবে রোগীদের স্থানান্তরিত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর মেলেনি বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

বিধাননগর পুলিশ ও দমকল বিভাগ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। বিধাননগর পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিধাননগর পুর্ব থানার আইসি-সহ পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে আসে। কী ভাবে আগুন লাগল, আগুন লাগার স্থান এবং সেখান থেকে আগুন অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে কী ভাবে সেই নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। পৃথক ভাবে তদন্ত করছে দমকল দপ্তরও। এর পরে যদি কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ আসে তা হলে পুলিশ আইনি ব্যবস্থা নেবে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে মোট দমকলের চারটি ইঞ্জিন কাজ করেছে। হাসপাতালে ভিতরের পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here










