পিঙ্কি পালঃ দক্ষিণ চব্বিশ পরগণাঃ আমতলায় দলের ‘বেআইনি’ কার্যালয় ভাঙতেই ডায়মন্ড-হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ উগড়ে দিলেন। অভিযোগ, বেআইনি ভাবে দখল করে এই তৃণমূলের পার্টি অফিসটি গড়ে উঠেছিল। সংশ্লিষ্ট পার্টি অফিসটির বিষয়ে অভিযোগ জমা পড়তেই জেলা প্রশাসনের তরফে পাঠানো হয় নোটিস। সেই নোটিস অনুযায়ী হাজির না হওয়ায় শনিবার তিনটি বুলডোজার ভেঙে দেয় সেই কার্যালয়। এরপরই এ বিষয়ে বিকেলে মুখ খুললেন এলাকার তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

পালা বদলের পর একটা নয় অভিষেকের ঘাড়ে ঝুলছে একাধিক মামলা। জেলা-কলকাতা সব জায়গায় বিভিন্ন অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে FIR হয়েছে। এর মধ্যে তাঁর ‘ডিজে বাজানো’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলায় বেশ জর্জরিত অভিষেক। এমতাবস্থায় এদিন আমতলার তৃণমূল পার্টি অফিস ভাঙার প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলে সংবাদ মাধ্যমের সামনে দৃশ্যতই ক্ষুব্ধ অভিষেক জানিয়ে দেন, ২০৩১-এ তাঁরা ক্ষমতায় ফিরলে ঠিক একই ভাবে মামলা-মোকদ্দমা ও আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে বিজেপি নেতারা যেন ভুলে না যান।”

আমতলার এই পার্টি অফিসটির প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে অভিষেক বলেন, “যদি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের দয়ায় বেঁচে থাকি, যে আইনের যে ধারায় আপনারা এই অত্যাচারগুলো করেছেন, একই আইনের একই ধারায় ৩১ ফিরিয়ে দেব সুদ সমেত। কথা দিয়ে গেলাম।” তৃণমূল সাংসদের অভিযোগ সুরে বলেন, ” এর পিছনে বিজেপি নেতারই রয়েছেন। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদত রয়েছে। তাঁদের প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এখন যদি ভিতরে কিছু প্লান্ট করে দেওয়া হয় তার দায় কার?”
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
তিনি আরও বলেন, “যিনি আমার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে হারেন তাঁকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে পার্টি অফিস যখন ভাঙা হচ্ছে। বিজেপির গুণ্ডারা মুখ ঢেকে সব ভেঙে দিচ্ছে। আমরা আগামী দিন এই মামলা নিয়ে কোর্টে যাব।” প্রসঙ্গত, ক্ষমতায় থাকাকালীন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচরণ, চলন-বলন, কথার ধরন খুব ঔদ্ধত্যপূর্ণ সে নিয়ে আগেই অভিযোগ করেছিলেন বিরোধীদের একাংশ। শুধু বিরোধী বলা ভুল, এই একই অভিযোগে পালা-বদলের পর তাঁরই দলের বিক্ষুব্ধরা দল ছেড়েছেন। তৃণমূল ক্ষমতাচ্যূত হওয়া পরও তাঁর যে স্বভাব এখনও বদলায়নি তেমনই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।










