অন্বেষা দেঃ কলকাতাঃ পালাবদলের পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক তৃণমূল নেতাকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। এবার ডিম ছোড়া নয়। তৃণমূল কাউন্সিলরের মুখে কালো কালি মাখালেন মহিলারা। রবিবার এই ছবিই দেখা গেল দমদম পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে। তৃণমূল কাউন্সিলরকে কালো কালি মাখানোর পাশাপাশি তাঁর এক সঙ্গীকে মারধরও করা হয়। দমদমের বিজেপি বিধায়ক অরিজিৎ বক্সী বললেন, ওই তৃণমূল কাউন্সিলরের পার্টি অফিস থেকে বান্ডিল বান্ডিল ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড উদ্ধার হয়েছে। পাওয়া গিয়েছে একটি ডায়েরিও। যেখানে কার কাছ থেকে কত টাকা নেওয়া হয়েছে, তা লেখা রয়েছে।

দমদম পৌরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তাপস রায়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে গত কয়েকদিন ধরেই সরব স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ, সরকারি জমি দখল করে পার্টি অফিস তৈরি করেছিলেন তাপস রায়। এদিন সেই অফিস খুলে চক্ষু চড়কগাছ স্থানীয় বাসিন্দাদের। অফিসের মধ্যে একটি বন্ধ আলমারি ছিল। সেটি খুলে দেখা যায়, আলমারির ভিতরে রয়েছে মৃত ব্যক্তিদের ভোটার কার্ড, বান্ডিল বান্ডিল রেশন কার্ড, খাদ্যসাথীর কার্ড, জমি বাড়ির বহু নথি। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে উত্তর দমদম পৌরসভার বহু সরকারি নথি। এরপরই উত্তেজিত জনতা তৃণমূল কাউন্সিলরের এক সঙ্গীকে মারধর করে কালি মাখায়। পরে কাউন্সিলরকে পার্টি অফিস থেকে বের করার সময় মহিলারা মুখে কালি মাখিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

দমদমের বিজেপি বিধায়ক অরিজিৎ বক্সী বলেন, “দমদম পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পৌরপিতা তাপস রায় আর তাঁর কিছু চ্যালাচামুন্ডা গত কয়েকদিন ধরে এই অফিস খোলার চেষ্টা করছিলেন। একাধিকবার এই খবর পেয়েছি। রাতবিরেতে এখানে আসতেন। লোক দেখলে চলে যেতেন। সরকারি জায়গা দখল করে এই পার্টি অফিস তৈরি করা হয়েছিল। তাই, সরকারের সম্পত্তি যাতে সরকারের কাছে থাকে, পাড়ারই সাধারণ মানুষ এখান থেকে তৃণমূলের বোর্ডটা সরিয়ে দিয়ে পৌরসভার অফিস করে দিতে চেয়েছিলেন। আমরা তাঁদের ইচ্ছাকে মান্যতা দিই। তাঁরাই এসে পৌরসভার বোর্ড লাগিয়ে দেন। তবে অফিসের দরজা খোলা হয়নি। আমরা ভেবেছিলাম, যখন সরকারি কাজ হবে, তখন কাউন্সিলরের কাছ থেকে চাবি নিয়ে অফিসের দরজা খোলা হবে। আমার মনে হয়, এই খবরটা ওরা পেয়েছিল।”
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
বিজেপি বিধায়ক এরপরই বলেন, “স্থানীয় বাসিন্দারা আমাদের জানান, কাউন্সিলর ২-৩ জনকে নিয়ে রাতে অফিসের আশপাশে ঘুরঘুর করছেন। আজকে সকালবেলা খবর আসে, কাউন্সিলরের কয়েকজন সহযোগী অফিসের আশপাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে। খবর পেয়ে আমি চলে আসি। বিজেপি কর্মীরাও আসেন। আমরা এসে কাউন্সিলর আর তাঁর সঙ্গীদের বলি, চাবি দিয়ে দরজা খুলুন। দরজা খোলার পর ভিতরে দেখি, বন্ধ একটা আলমারি রয়েছে। আলমারি খুলতে বলতে, কাউন্সিলর নানা যুক্তি দিতে থাকেন। তারপর চাপ দিতেই কাউন্সিলর চাবি দিয়ে আলমারি খোলেন। তখনই বান্ডিল বান্ডিল মৃত ব্যক্তিদের ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড, খাদ্যসাথী যোজনার কার্ড পাওয়া যায়।”

আলমারির ভিতরে কী কী ছিল জানিয়ে অরিজিৎ বক্সী বলেন, “সবচেয়ে আশ্চর্যজনক, এই তল্লাটের প্রায় ৫০ শতাংশ জমিবাড়ির এগ্রিমেন্ট, দলিল পাওয়া গিয়েছে। আর একটি ডায়েরিও পাওয়া গিয়েছে ওই আলমারি থেকে। যেখানে নানা নাম ও পেমেন্টের উল্লেখ রয়েছে। কোথাও আড়াই লক্ষ লেখা, কোথাও চার লক্ষ লেখা। কাউন্সিলর বলছেন, মনে হয় পুজোর চাঁদা। এগুলো দেখে বোঝা যাচ্ছে, তোলাবাজির টাকা।” সাধারণ মানুষকে আইন হাতে না তুলে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে বিজেপি বিধায়ক বলেন, “স্থানীয় মানুষজনকে উত্তেজিত না হওয়ার আবেদন জানিয়েছি। আইন হাতে তুলে না নেওয়ার আবেদন জানিয়েছি। যে অত্যাচার তাঁরা করেছেন, তাঁর বিচার হবে।”
Sponsored Ads
Display Your Ads Here









