ব্যুরো নিউজঃ ইরানঃ হরমুজ প্রণালীতে ২১ জন ভারতীয় নাবিককে নিয়ে আসা একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর হামলার পুরনো ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ফেডারেশন অফ শিপিং ইউনিয়নস অফ ইন্ডিয়া (FSUI) মাসখানেকেরও বেশি পুরোনো ঘটনার ভিডিয়োটি প্রকাশ করতেই চাঞ্চল্য। তাতে দেখা যাচ্ছে, জাহাজটিকে ঘিরে ফেলেছে একাধিক ছোট নৌ-যান। এর পরেই জাহাজের ডেকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নাবিকরা নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। ভিডিয়োয় জাহাজের দিকে রকেট-চালিত গ্রেনেড (RPG) ছোড়ার দৃশ্যও দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে গত ২২ এপ্রিল। পানামার পতাকাবাহী ওই কন্টেনার জাহাজে মোট ২২ জন ক্রু ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২১ জনই ভারতীয়। হরমুজ় প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময়ে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর স্পিড বোটগুলি জাহাজটির একদম কাছে চলে আসে। তার পরেই হয় গুলিবর্ষণ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নাবিকরা ডেক থেকে সরে গিয়ে জাহাজের ভিতরে আশ্রয় নেন। প্রকাশ্যে আসা ভিডিয়োতে তাঁদের আতঙ্কিত অবস্থায় ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। FSUI-এর অভিযোগ, এটি কোনও সাধারণ জলদস্যু হামলা নয়। ইরানের IRGC-র নৌবাহিনীর সদস্যরাই জাহাজটিকে ঘিরে হামলা চালিয়েছিল বলে দাবি সংগঠনের।

শুধু সতর্কবার্তা বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশিকা দিয়ে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় কর্মরত নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছে তারা। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারগুলির কাছে নাবিকদের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার দাবি উঠেছে। ঘটনার সময়ে জাহাজে থাকা ২১ ভারতীয় নাবিকই শেষ পর্যন্ত নিরাপদ ছিলেন। তবে ঘটনাটি ফের সামনে আসায় হরমুজ় প্রণালীতে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ হামলা বা গুলিবর্ষণের মুখে পড়েছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যপথে যাতায়াতকারী নাবিকদের নাবিকদের ঝুঁকিও বেড়েছে।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here









