নিজস্ব সংবাদদাতাঃ প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দিল্লি, চণ্ডীগড়, উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ–সহ বিস্তীর্ণ এলাকা। বৃষ্টি–বিপর্যয়ে একাধিক এলাকা বন্ধ থাকায় মঙ্গল ও আজ, বুধবার চারধাম যাত্রা স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে সোমবার থেকে অসমে বন্যা–পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। নতুন করে মৃত্যুর খবর মেলেনি। যদিও বন্যাবিধ্বস্ত ছ’টি জেলায় প্রায় সাড়ে চার লক্ষ মানুষ এখনও আটকে।

টানা বৃষ্টিপাতে বিপযস্ত দিল্লির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে (–১.৮) নেমে যায়। আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) জানিয়েছে, দমকা হাওয়ার পাশাপাশি আকাশ মেঘলা থাকবে, জারি থাকছে বৃষ্টির লাল সতর্কতাও। তার উপরে সোমবার সন্ধেয় গীতা কলোনির ঘিঞ্জি আখড়েওয়ালি গলিতে একটি চারতলা বাড়ি হেলে পড়ে দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। বাসিন্দাদের সকলকে নিরাপদে উদ্ধার করা গিয়েছে, আশপাশের বাড়িগুলিও ফাঁকা করার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে বাড়িটির একটি বারান্দা ভেঙে পড়ে। তারপরে বাসিন্দারা খেয়াল করেন, গোটা বিল্ডিং একদিকে হেলে পড়েছে। অভিযোগ, বেহাল ওই বাড়ি নিয়ে আগেই পুলিশ–প্রশাসনকে সতর্ক করা হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এলাকা সিল করেছে পুলিশ।

১.৭ মিলিমিটার বৃষ্টিতে জল জমে চণ্ডীগড়ের একাধিক এলাকা কার্যত স্তব্ধ। পাঞ্জাবের শহিদ ভগৎ সিং নগরে ১৫.২ মিমি, ভাতিন্দায় ১৪.৫ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। লুধিয়ানা, পাঠানকোট, হোশিয়ারপুর, জলন্ধর এবং মোহালিও অতিরিক্ত বর্ষণে বেসামাল। হরিয়ানার আম্বালা, ভিওয়ানি, কার্নাল, মহেন্দ্রগড় এবং সোনিপতেও ভারী বৃষ্টির খবর মিলেছে। আবার মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিতে হিমাচলের একাধিক জায়গায় ধস নেমেছে। চাম্বায় ধসে চাপা পড়েছে ডজন খানেক গাড়ি এবং বাড়ি, প্রাণহানির খবর মেলেনি। ভূমিধস ও হড়পা বানে বন্ধ ১০৮টি রাস্তা। ১২টির মধ্যে চাম্বা–সহ সাতটি জেলায় হড়পা বানের সতর্কতা জারি করেছে আইএমডি। অগস্টের গোড়া পর্যন্ত রয়েছে বৃষ্টির পূর্বাভাসও।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
অবিরাম বৃষ্টিতে উত্তরাখণ্ডের প্রেমনগর ও নন্দা কি চৌকি সংযোগকারী একটি নতুন সেতুর একাংশ ভেঙে দেহরাদুন–পাওন্টা সাহিব হাইওয়েতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি উন্নত হলেও অসমে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে আসছে। বরপেটায় একটি হস্তিশাবক এবং মোরিগাঁওয়ের পোবিতরা ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারিতে একশৃঙ্গ একটি গন্ডার প্রাণ হারিয়েছে। বরপেটায় রবিবার হাতির ছানাটির পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়। আর আগে থেকে অসুস্থ গন্ডারটির শারীরিক অবস্থা বন্যায় আরও খারাপ হওয়ায় মৃত্যু বলে অনুমান।










