অনুপ চট্টোপাধ্যায়ঃ কলকাতাঃ দশকের পর দশক ধরে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। যার অন্যতম কারণ ছিল কেন্দ্র ও রাজ্যে দুই ভিন্ন সরকার ক্ষমতায় থাকায় নানা বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য ও সমন্বয়ের অভাব। ঘাটালে বন্যা রোধে একমাত্র উপায় ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান-এর বাস্তবায়নে জরুরি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ ভাগিদারী ও সমন্বয়। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র ও রাজ্যে একই সরকার ক্ষমতসীন হওয়ায় উভয়ের সুসমন্বয়ে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের সঠিক ও দ্রুত রূপায়ণ হতে চলেছে। তেমনই বার্তা মিলল রাজ্য বাজেটে। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত করতে বরাদ্দ করা হলো ১২০০ কোটি টাকা।

২০২৪-এর লোকসভা ভোটের প্রাক্কালে আরামবাগে একটি সভায় সাংসদ দীপক অধিকারী ওরফে অভিনেতা দেবকে পাশে বসিয়ে তৎকালীন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, কেন্দ্রের সাহায্য ছাড়াই রাজ্য সরকার নিজেদের টাকায় ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত করবে। ২০২৫-এ রাজ্য বাজেটে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে কাজ শুরু হয়। সেই মতো প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ শুরু শুরু হলেও রাজ্যে সরকার বদলানোয় ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে ফের প্রশ্ন দেখা দেয়। যদিও পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নতুন সরকার ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত করবে।

সম্প্রতি পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটে প্রশাসনিক বৈঠক ডেকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দেব। ওই বৈঠক শেষেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছিলেন, ‘ঘাটালের এমপি (দেব) বলেছেন, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান কার্যকর করা আমার প্রতিশ্রুতি ছিল। আমি বলেছি, আমাদেরও তা-ই ছিল। আমরা ওটা করব। উন্নয়ন নিয়েই উনি (দেব) কথা বলেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কাজ, ঠিক করে উন্নয়ন করা। ভোটের সময়ে রাজনীতি হবে। বাকি সারা বছর বিকাশের কথা বলব।’ পরে দেবও বলেন, ‘প্রথম থেকেই আমার প্রতিশ্রুতি ছিল ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত করা। ২০১৪ সাল থেকে আমি সেই কথা বলে যাচ্ছি। দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) কথা রেখেওছিলেন। নতুন সরকার এটা কমপ্লিট করবে, যেটা আগের সরকার শুরু করেছিল।’
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান মূলত ষাট দশক আগের একটি পরিকল্পনা। নদী বেষ্টিত ঘাটাল এবং ঘাটাল লাগোয়ো এলাকা গুলিকে বন্যার হাত থেকে বাঁচাতে এই প্রকল্প প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছিল। দীর্ঘ টালবাহানার পরে বছর দুয়েক আগে প্রকল্প রুপায়ণের কথা ঘোষণা করেছিল মমতার সরকার। তার জন্য পাঁচশো কোটি টাকা বরাদ্দও করা হয়েছিল। তবে কাজ শুরুর পরই নানা ঘটনায় হোঁচট খায় প্রকল্পের কাজ। নানা জট কাটিয়ে পরে অবশ্য কাজ শুরু
Sponsored Ads
Display Your Ads Hereকিন্তু স্থানীয়দের একাংশের দাবি, গত দুর্গা পুজোর পর থেকে ধীর গতি কমতে থাকে। টাকা বরাদ্দের পরেও অর্থ দপ্তরের অনুমোদন না মেলায় প্রস্তাবিত একাধিক কাজ শুরুই হয়নি। পাম্প হাউসের কাজ শুরু হলেও জমি কেনা না হওয়ায় ভোটের মুখে সেই কাজও বন্ধ হয়ে যায়। তার পরে ভোট মিটতেই বন্ধ হয়ে যায় শিলাবতী-সহ ঘাটাল, দাসপুরের একাধিক খাল-নদীর পলি তোলার কাজ। ফলে তখন থেকেই অনিশ্চয়তা দেখা দেয় গোটা প্রকল্প নিয়ে। বাজেটে বরাদ্দ ঘোষণার পরে সেই অনিশ্চয়তা কাটল বলেই মনে করছেন ঘাটালবাসী।










