"INDIAN PRIME TIME" MSME Registration No: UDYAM - WB - 10 - 0189506

"INDIAN PRIME TIME" MSME Registration No: UDYAM - WB - 10 - 0189506

দেখাশোনার অভাবে খাঁচায় বন্দি বাবা

Share

শিবশঙ্কর চট্টোপাধ্যায়ঃ দক্ষিণ দিনাজপুরঃ একেই করোনা ভীতি এর উপর বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে গেলে খুঁজে না পাওয়ার ভয়। এদিকে বাড়িতে দেখাশোনা করার লোকের অভাব। তাই বাধ্য হয়ে বাড়ির সামনে বাঁশের বাতা দিয়ে খাঁচা তৈরি করে সারা দিন তার ভেতর সম্প্রতি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়া এক বৃদ্ধ বাবাকে রেখে দেওয়া হয়েছে। যদিও সে মানসিক ভারসাম্য হারালেও সেরকম কোনো আচার আচরণ করেন না। যাকে দেখলে মানুষের কাছে ভয় বা আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ান। এখনো নাম জিজ্ঞেস করলে দিব্যি নিজের নাম বলে দেন। তবুও খাঁচা বন্দি ওই বৃদ্ধ। স্রেফ দেখাশোনার লোকের অভাবে। দক্ষিন দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট থানার খাসপুর এলাকার পার্বতীপুর এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। মানসিক ভারসাম্যহীন ওই খাঁচায় আটকে থাকা সত্তর বর্ষ উর্দ্ধ বৃদ্ধের নাম সুশান্ত দাস।

খাসপুর থেকে বালুরঘাট যাওয়ার রাস্তায় পার্বতীপুর গ্রাম পরে। হামেশাই লোকজন, গাড়ি, সাইকেল, মোটরসাইকেল চলাচলকারীদের নজরে পরে রাস্তার ধারে নিজের বাড়ির সামনে খাঁচার মধ্যে বন্দি হয়ে বসে রয়েছেন খোদ বাড়ির কর্তা সুশান্ত দাস। সুশান্ত বাবুকে ওই ভাবে খাঁচার ভেতর বন্দি অবস্থায় দেখতে পেয়ে কৌতুহল বসে কাছে গিয়ে বিষয়টি খোঁজ নিতেই ছেলের বউ বেরিয়ে এসে বলে উনি পাগল। তাই এভাবেই সারাদিন ওই খাঁচার মধ্যেই আটকে রাখা হয়।


এরপরে বাড়ি থেকে ছোটো ছেলে ছোটনা দাস বেরিয়ে আসেন। ছোটনার কাছেই জানা গেল সুশান্ত বাবুর স্ত্রী রয়েছেন। তাদের দুই ছেলে ছোটন ও খোকন। ছোটন পেশায় গাড়ির কন্ডাটর এবং বড়ো ভাই খোকন নিজের পিক আপভ্যান চালিয়ে সংসার চালায়।

https://www.youtube.com/watch?v=8_4annMmOm0


ছোটন দাস জানায়, “চার বছর আগে পেশায় কল মিস্ত্রি সুশান্ত বাবু মানসিক অবসাদ গ্রস্ত হয়ে নিজের মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতে থাকেন। বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলে বাড়ি ফেরেন না। বেশ কয়েকদিন নিপাত্তা থাকার পর খোঁজ খবর করে অন্য কোনো গ্রাম থেকে খুঁজে নিয়ে আসতে হয়। যেমন হয়রানির মধ্যে পড়তে হয়। তেমন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে হয়। এছাড়া গতবছর থেকে করোনার একটা ভীতিও রয়েছে। এদিকে সারাক্ষন তারা নিজেদের কাজে বাড়িতে থাকেন না। এর ফলে দেখভাল করা সম্ভব নয়।

তাই বাবাকে হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে গাছ তলায় খাঁচা তৈরি করে সারাদিন আটকে রাখেন। সুশান্ত বাবুকে সকালে ঘর থেকে বের করে নিয়ে এসে খাঁচায় পোড়া হয়। এখানেই তার খাওয়া দাওয়া ও প্রকৃতির ডাকে সারা দেওয়ার কাজ। রাত্রে অবশ্য ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে বাইরে থেকে তালা মেরে রাখা হয়”।


ছোটন জানিয়েছে, “তাদের বাবাকে সুস্থ করে তুলতে তারা যে চিকিৎসা করাননি তা নয়। অসুস্থ বাবাকে সুস্থ করে তুলবার জন্য বালুরঘাট তো বটেই এমনকি পাশের জেলা মালদা এবং সুদুর বহরমপুর পর্যন্ত দৌড়েছেন। কিন্তু বার বার নিরাশ হয়ে ফিরে আসতে হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে বাবাকে হারানোর ভয়ে এভাবে রাখতে বাধ্য হয়েছেন যাতে বাবা বাড়ি থেকে কোথাও বেরিয়ে না চলে যান”।

সুশান্ত বাবুর প্রতিবেশীরাও এক কথা জানিয়েছেন। সুশান্ত বাবুর পরিবার বা প্রতিবেশীরা যতই বলুন না কেন এভাবে এই যুগে একজন বৃদ্ধকে খাঁচার মধ্যে বন্দি অবস্থায় রেখে দেওয়াটা বড়োই বেমানান।

Share this article

Facebook
Twitter X
WhatsApp
Telegram
 
June 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930