অনুপ চট্টোপাধ্যায়ঃ কলকাতাঃ ভারতীয় সংগীতের অম্বরের উজ্জ্বলতম ধ্রুবতারা আশা ভোঁসলের আজ মহাপ্রয়াণ ঘটলো। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। গত আট দশক ধরে নিজের দ্যুতিতে আসমুদ্র হিমাচলকে মুগ্ধ করে রেখেছে। গতকাল সন্ধ্যায় আশা ভোঁসলে বুকে সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। কিন্তু আর ফিরলেন না। তাঁর মৃত্যুর খবরে শোকস্তব্ধ গোটা বলিউড থেকে টলিউড সকলে।ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, “মাল্টিপল অর্গান ফেলিওরের কারণে মৃত্যু হয়েছে।” পরিবার সূত্রে খবর, আগামীকাল বিকেলবেলা ৪টের সময় মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

১৯৩৩ সালে মহারাষ্ট্রের এক সংগীত পরিবারে জন্ম আশার। বাবা পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকর ছিলেন শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী ও নাট্যব্যক্তিত্ব। বাবার অকাল প্রয়াণের পর মাত্র ১০ বছর বয়স থেকেই দিদি লতা মঙ্গেশকরের হাত ধরে পরিবারের হাল ধরতে পেশাদার সংগীত জগতে পা রাখেন তিনি। দিদির বিপুল খ্যাতির আড়ালে নিজের জায়গা তৈরি করাটাই ছিল তাঁর জীবনের প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ। ১৯৪৮ সালে ‘চুনরিয়া’ ছবিতে প্রথম হিন্দি গান গাওয়ার পর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। ও পি নায়ার, খৈয়াম কিংবা শচীন দেব বর্মনের সুরে তিনি একের পর এক কালজয়ী গান উপহার দিয়েছেন। বাদ পড়েনি নতুন প্রজন্মের সুরকারও। নদিম-শ্রাবণ, যতীন-ললিত, এ আর রহমানের সুরে আশার গানগুলো বলিউডের নিউ জেনারেশনকেও বুঁদ করে রেখেছিল।
রাহুল দেব বর্মনের সঙ্গে আশা ভোঁসলের জুটি ভারতীয় সংগীতে এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল। ক্যাবারে থেকে পপ, জ্যাজ থেকে ব্লুজ— সব মাধ্যমেই তাঁর কণ্ঠ ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ‘দম মারো দম’ বা ‘পিয়া তু আব তো আজা’-র মতো গানে যেমন তিনি শ্রোতাদের নাচিয়েছেন, তেমনই আবার ‘উমরাও জান’ ছবিতে তাঁর গজল বুঝিয়ে দিয়েছে ধ্রুপদী সংগীতে তাঁর দখল কতটা গভীর। তবে শুধু গান নয়, চর্চিত তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও। বিশেষ করে রাহুল দেব বর্মণের সঙ্গে তাঁর প্রেম, বিয়ে। নিন্দুকরা বলত, আরডির প্রেমই তাঁকে কেরিয়ার গড়তে সাহায্য করেছিল। তবে এই ধরনের গুঞ্জনকে আশা ফুৎকারে উড়িয়েছেন তাঁর কালজয়ী পারফরম্যান্সের মধ্যে দিয়ে।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here










