চয়ন রায়ঃ কলকাতাঃ পাঁচ মন্ত্রীকে নিয়ে প্রথম মন্ত্রীসভার বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিনের বৈঠকে প্রথমে ৬টা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথমেই তিনি কমিশনের উদ্দেশে মন্ত্রিসভার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে বেশ কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। শুভেন্দু অধিকারী জানান, “অকালে ঝরে যাওয়া ৩২১ জন, যাঁরা আত্মবলিদান করেছেন, তাঁদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। তাঁদের পরিবারের প্রতি সরকার দায়বদ্ধ। তাঁদের হত্যার বিচার আমরা দেব, পরিবারগুলোর সামাজিক দায়িত্ব সরকারের।”

শুভেন্দুর কথায়, “বাংলার সুরক্ষার প্রশ্নে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতর, BSF-এর সীমান্ত সুরক্ষিত করার জন্য ‘ল্যান্ড ট্রান্সফার প্রসেসে’ অনুমোদন দেওয়া হল। আজ থেকেই ল্যান্ড ট্রান্সফার প্রক্রিয়া শুরু হবে। ভূমি ও রাজস্ব সচিব ও মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ৪৫ দিনের মধ্যে BSF-এর প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর সম্পূর্ণ করতে হবে।” মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করলেন, “আয়ুষ্মান ভারতে যুক্ত হলাম। সংশ্লিষ্ট দফতর অর্থাৎ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে প্রয়োজনীয় চুক্তি ও অন্যান্য বিষয়গুলো স্বাস্থ্যসচিব, মুখ্যমন্ত্রী দফতরের উপদেষ্টা ও মুখ্যসচিব মিলিতভাবে অতি দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।”

এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা, প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা, প্রধানমন্ত্রী স্কুল ফর রাইসিং ইন্ডিয়া, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, প্রধানমন্ত্রী উজলা যোজনা ৩.০ ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পে যারা আবেদন করেছিলেন, ৮ লক্ষ ৬৫ হাজার আবেদন কেন্দ্রের MSME দফতরে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তথ্য দিয়ে জানান, বাংলায় ১ কোটি গ্রাহক উজলা যোজনায় গ্যাস পান। ৪০০ টাকা কম দামে। প্রধানমন্ত্রী আরও ৭৫ লক্ষ দেশে চালু করেছিলেন, বাংলার জন্য কোটা ছিল ১৫ লক্ষ। তাঁর অভিযোগ, গ্রাহক বিতরণ কেন্দ্রে হাজার হাজার দরখাস্ত পড়ে থাকলেও তা চালু করা হয়নি। জেলাশাসকরা সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠাননি। সেগুলো পাঠানো হল বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
শুভেন্দু বলেন, “বাংলায় ন্যাশনাল ক্যাডার IAS, IPS, WBCS, WBPS তাঁরা কেউই কেন্দ্রীয় সরকারের ট্রেনিংয়ে যুক্ত হতেন না। এ বিষয়ে মুখ্যসচিবকে অন্য রাজ্যের নিয়ম অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, আগের সরকার এখানে BNS কার্যকর করেনি। আজ থেকে বাংলায় BNS মেনে সংবিধান অনুযায়ী কাজ হবে বলে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০১৫ সালের পর বাংলায় কোনও নিয়োগ হয়নি। সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ৫ বছর বাড়ানো হল। আরজি কর, সন্দেশখালির তদন্ত প্রসঙ্গে, সপ্তম পে কমিশন ও ডিএ নিয়ে আগামী ক্যাবিনেট বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতো জনকল্যাণ, সেবামূলক সমস্ত প্রকল্পই চলবে, তবে তা স্বচ্ছ ভাবে, সেটাও পরিষ্কার করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।











