অনুপ চট্টোপাধ্যায়ঃ কলকাতাঃ মুকুন্দপুরে ফ্ল্যাট থেকে এক বয়স্ক দম্পতির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। মৃত দম্পতির নাম দুলাল পাল। বয়স ৬৬ বছর ও রেখা পাল। বয়স ৫৩ বছর। তবে এই ঘটনার সময় ছেলে-ছেলের বউ বাড়িতে ছিল না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুর ১২টার পর থেকে দুলালবাবু এবং রেখা দেবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। বাইরে থেকে ফ্ল্যাটের লোহার দরজা তালা বন্ধ ছিল। আর কাঠের দরজাটা খোলা ছিল। এরপর টর্চ জ্বেলে খোঁজ নিতে গিয়ে প্রতিবেশীরা ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। দম্পতির মেয়ে সঙ্গীতা সেনাপতি খবর পেয়ে শ্বশুর বাড়ি থেকে ছুটে আসে। আর ভাই সৌরভ ও তার বউয়ের নামে পূর্ব যাদবপুর থানার পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ, “বছর খানেক আগে সৌরভের বিয়ে হয়। এরপর থেকে সৌরভ এবং সৌরভের স্ত্রী দুলালবাবু ও রেখা দেবীর উপর অত্যাচার করত। মারধর করত। দেওয়ালে মাথা ঢুকে দিয়েছিল। এমনকি ওষুধ খেতে দিত না। অথচ এখানকার পার্টির লোককে ভুয়ো ওষুধ দেখিয়ে বলত, ওষুধ খেতে দিই।” দুলালবাবু এবং রেখা দেবী উপর অত্যাচার করার কারণ হিসেবে জানা যায়, “মাস ছয়েক আগে সঙ্গীতার একটা বড়ো অপারেশন হয়েছিল। তখন তারা চেয়েছিলেন, মেয়ের কাছে গিয়ে দেখাশোনা করবেন।
কিন্তু ভাই ও ভাইয়ের বউ চেয়েছিল, বাড়িতে এনে রেখে দেখাশোনা করুক। তাহলে দুলালবাবু এবং রেখা দেবীর বাড়ির কাজও করতে পারবে। ফলে আর সঙ্গীতার কাছে যাওয়াও হয়নি। আর অপারেশনের পর সঙ্গীতা ছ’মাস বাড়িতে আসতে পারবে না জেনে অত্যাচার আরো বাড়িয়ে দিয়েছিল।” আপাতত পুলিশ অভিযোগে ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছেন। পাশাপাশি সঙ্গীতা ভাই ও তার স্ত্রীর যাবজ্জীবন শাস্তির দাবী করেন।