নিজস্ব সংবাদদাতাঃ হলদিয়াঃ পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ায় এক বিজেপি কর্মীকে খুনের অভিযোগ উঠল। বুধবার হলদি নদীর পার থেকে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। মৃতের নাম মহাদেব বিশ্বাস। বয়স ৪৭ বছর। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁদের দলের কর্মীকে খুন করেছে। যদিও অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে রাজ্যের শাসকদল।

গতকাল থেকে মহাদেবের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এদিন হলদি নদীর তীরে তাঁর স্ত্রী প্রথম মৃতদেহ দেখতে পান বলে জানা গিয়েছে। মৃতের শরীরে কাটা দাগ রয়েছে। খবর পেয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হন। আসে ভবানীপুর থানার পুলিশ। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আগামীকাল হলদিয়ার টাউনশিপ হেলিপ্যাড ময়দানে সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও সেই সভায় থাকবেন। তার আগে বিজেপি কর্মীকে খুনের অভিযোগে রাজনৈতিক চাপানউতোর বেড়েছে এলাকায়।

মহিষাদল বিধানসভার বিজেপির আহ্বায়ক বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা বিশ্বাসের সঙ্গে বলছি, এটা পরিকল্পিত খুন। কোনও স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। কারণ, মহাদেব বিশ্বাসের দেহে যে সমস্ত দাগ দেখেছি। গলায় প্যাঁচানো দাগ। এমনকি, মলত্যাগ পর্যন্ত করে ফেলেছেন। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদেরই কাজ। এলাকায় ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করতে এটা করা হয়েছে। এই এলাকায় এসব আগে ছিল না।” তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “পরশুদিন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজির সভার জন্য পতাকা লাগিয়েছেন। ভয়ের বাতাবরণ সৃষ্টি করতে পরিকল্পিতভাবে এই খুন করা হয়েছে। সিআইডি দিয়ে এই সব তদন্ত হবে না। আমরা সিবিআই তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। এর শেষ দেখে ছাড়ব।”
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
যদিও অভিযোগ উড়িয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেত্রী সুমিত্রা ঘোড়ই বলেন, “উনি একজন মৎস্যজীবী। আমি জানতে পেরেছি, মাছ ধরার জন্য গতকাল রাতে বাড়ি থেকে বেরোন। বাড়ি ফেরেননি। তাঁর কাছে ফোনও ছিল না। তাই কেউ তাঁকে ফোনে পাননি। তাঁর স্ত্রী ঘাস কাটতে এসেছিলেন। তিনিই প্রথম দেখতে পান। গলায় একটা কাটার দাগ রয়েছে। এর মানে এই নয় যে তৃণমূল খুন করেছে। এটা ভুল। উনি কোনও পার্টি করতেন না। ময়নাতদন্ত হলেই সব জানা যাবে। আমরা চাই, পরিবার বিচার পাক।”











