পিঙ্কি পালঃ দক্ষিণ চব্বিশ পরগণাঃ গত মঙ্গলবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার ভাঙড়ের খড়গাছিতে ডিজেলের ড্রাম থেকে হওয়া তীব্র বিস্ফোরণে এলাকার চারটি নিষ্পাপ শিশু একেবারে ঝলসে গিয়েছে। বিস্ফোরণের চব্বিশ ঘণ্টা পরেও কান্না থামছে না আহত শিশু সাদিকুল মোল্লার মায়ের। তাঁর ৮ বছরের শিশু সন্তান সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারে, সেই বিশ্বাসটাই হারিয়ে গিয়েছে তাঁর। কারণ লাইট ডিজেল অয়েল বিস্ফোরণে যে চারজন শিশু গুরুতর আহত হয়েছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা সাদিকুলের। তার দেহের প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। সাদিকুলের বাবা জিয়াউল মোল্লা বলেন, “ডাক্তারবাবুরা বলেছেন তিন দিন না গেলে কিছু বলা যাবে না। ওর দেহ এতটাই ঝলসে গিয়েছে যে সারা শরীরে আর কোনও চামড়া অবশিষ্ট নেই।”

কলকাতার এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে সাদিকুলের সঙ্গে তার দুই বন্ধু সামিউল মোল্লা ও রায়হান মোল্লাও চিকিৎসাধীন। কেবল রিয়াজ হাসান মোল্লা নামে আর একটি শিশুকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে থাকায় তার আঘাত কম। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, ২০২৪ সালে ঘূর্ণিঝড় দানার দাপটে সুন্দরবন লাগোয়া ক্যানিং পূর্ব বিধানসভার বেশ কিছু রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই ঘটনার পর পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের পক্ষ থেকে বেশ কিছু পিচ রাস্তা মেরামতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ক্যানিং-২ ব্লকের এই রাস্তার টেন্ডার পেয়েছিলেন নিউ আলিপুরের বাসিন্দা ঠিকাদার শম্ভু রায়। প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছিল দপ্তর।

কয়েকদিন আগে রাস্তা মেরামতির কাজ শুরু হয়। রাস্তা তৈরির প্রয়োজনীয় পিচের ড্রাম, লাইট ডিজেল অয়েল ও অন্যান্য রাসায়নিক দ্রব্য মজুত করা হয় খড়গাছি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনের দিকে। সেই জায়গায় স্কুলের মাঠে দুপুরে ও বিকেলে পড়ুয়ারা খেলা করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্কুলের পিছনের ওই রাস্তার উপরেই খোলা পড়েছিল প্রায় ২০০ লিটার লাইট ডিজেল অয়েল ভর্তি একটি ড্রাম। সেই ড্রামের পাশেই মঙ্গলবার কয়েকটি শিশু খেলা করার সময়ে তীব্র বিস্ফোরণ হয়।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
এই ঘটনায় ভাঙড় থানা ঘটনাস্থলে পুলিশ পিকেট বসিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থার বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। ঘটনার পরেই গা ঢাকা দিয়েছেন ঠিকাদার শম্ভু রায়। ভাঙড়-১ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ আহসান মোল্লা বলেন, ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। ঠিকাদার সংস্থার উচিত ছিল সাবধানতা অবলম্বন করা।’ এ দিকে, আজ বৃহস্পতিবার আহত তিন শিশুকে বাঙ্গুর হাসপাতালে সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ দেখতে যাবেন রাজ্যের শিশু সুরক্ষা অধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সন তুলিকা দাস।










