ব্যুরো নিউজঃ ইরানঃ পশ্চিম এশিয়ায় আরো ঝাঁঝালো হলো যুদ্ধের উত্তাপ। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) দাবী, ‘‘ইরানী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আমেরিকার গর্বের F-18 সুপার হর্নেট যুদ্ধবিমান ধ্বংস।’’ তাদের মতে, ‘‘একটি F-১৮ বিমানকে তারা মাটি থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে উড়িয়ে দিয়েছে।’’ তবে এখনো অবধি আমেরিকার তরফে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। কিন্তু ইরানের এই দাবী যদি সত্যি হয়, তবে তা চলমান যুদ্ধে এক বড়োসড়ো প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিন একটি বিবৃতিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস স্পষ্ট দাবী করেছে, ‘‘আমেরিকান বিমানটিকে সাফল্যের সঙ্গে নিশানা করা হয়েছে।’’ সেই দাবীর স্বপক্ষে তেহরান একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেছে। ভিডিয়োটিতে দেখা যাচ্ছে, ‘একটি F-18 যুদ্ধবিমান উড়ছে। কিছুক্ষণ পরেই পিছন থেকে একটি প্রজেক্টাইল উড়ে এসে সেটিতে আঘাত করতে দেখা যাচ্ছে।’ আর এর বাইরে কিছুই জানায়নি। কিন্তু এই ঘটনা ঠিক কোন জায়গায় ঘটেছে? বিমানটির ক্ষতি কতটা হয়েছে? পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে কিনা? বা পাইলটের কি হয়েছে? এই সমস্ত প্রশ্ন নিয়ে এখনো পর্যন্ত ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, দীর্ঘদিন ধরেই F-18 সুপার হর্নেট আমেরিকার নৌবাহিনীর মূল অস্ত্র। এটি একটি বহুমুখী যুদ্ধবিমান। অর্থাৎ, আকাশে যুদ্ধ, স্থলে বা সমুদ্র থাকা কোনো নিশানায় আক্রমণ, আকাশ পথে আসা বিপদ থেকে প্রতিরক্ষা সবকিছু করতে পারে। যুদ্ধের ইতিহাসে শত্রুদেশের হাতে F-18 ধ্বংস হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘‘১৯৯১ সালের পারস্য উপসাগরের যুদ্ধে একটি ইরাকি মিগ-২৫ মাটিতে নামিয়ে দিয়েছিল একটি F-18-কে। এছাড়া শত্রুপক্ষের হাতে একটিও F-18 ধ্বংস হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে হাউথিদের হামলা বা অন্যান্য যুদ্ধেও এই যুদ্ধবিমান একটিও ধ্বংস হয়নি।’’ এর আগে আমেরিকার একটি F-35 যুদ্ধবিমানও গুলি করে নামানোর দাবী করেছিল। তবে আমেরিকা তা অস্বীকার করেছিল। F-35-এর তুলনায় স্টেলথ প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকলেও F-18-এর ‘সারভাইবিলিটি’ অনেক বেশি। তাই ইরানের দাবী সত্যি হলে এই ঘটনা যুদ্ধের গতিপ্রকৃতিতে নয়া মোড় আনতে পারে।











