নিজস্ব সংবাদদাতাঃ ওড়িশাঃ আজ ভোর ৩ টে নাগাদ ওড়িশার হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারের আইসিউতে ভয়াবহ আগুন লেগে হাসপাতাল চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আর ভোররাতে মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়তেই হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। এই অগ্নিকাণ্ডে ইতিমধ্যেই ১০ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। রোগীদের বাঁচাতে গিয়ে হাসপাতালের ১১জন কর্মী আহত হয়েছেন। আর বাকি রোগীদের আইসিউ থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া, আর কেউ আটকে রয়েছেন কি না আইসিউতে, তাও দেখা হচ্ছে। তবে, কী কারণে আগুন লাগল তা এখনও জানা যায়নি। তবে, দমকলের প্রাথমিক অনুমান, শট সার্কিট থেকেই আগুন লেগেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আইসিউতে কুড়ি জনের বেশী রোগীর চিকিৎসা চলছিল। খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছয় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। দ্রুত তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তারপর হাসপাতাল কর্মীদের সাহায্যে আইসিউ থেকে চিকিৎসাধীন রোগীদের দ্রুত বের করে আনেন। তাঁদের অন্য ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত করা হয়। তবে, সেইসময় ৭ জন রোগীর মৃত্যু হয়। পরে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে আগুনে ঝলসে মৃত্যু হয়েছে নাকি শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে, রোগীদের বাঁচাতে গিয়ে হাসপাতালের বহু কর্মী ঝলসে গিয়েছেন বলে খবর।

ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছে আহতদের সঙ্গে দেখা করেন। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। সাথে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুকেশ মহালিংও ছিলেন। গোটা ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “ভোররাতে হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন লাগে। ফলে ট্রমা কেয়ার আইসিইউ এবং সংলগ্ন ওয়ার্ডগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোট ২৩ জন রোগীকে অন্যান্য ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। স্থানান্তরিত করার সময় সাতজন রোগী মারা যান। পরে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। মৃত ব্যক্তিদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে মৃতদের পরিবারপিছু ২৫ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা করেছেন তিনি। কী কারণে আগুন লাগল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here









