নিজস্ব সংবাদদাতাঃ কার্শিয়াংঃ কালো চিতাবাঘের পর এবার কার্শিয়াংয়ের ডাউহিলে কালো হরিণের দেখা পাওয়া গিয়েছে। এটি মূলত বার্কিং ডিয়ার প্রজাতির। তবে মেলানিস্টিক। ২০১০ সালে শেষ বার ও প্রথম বার দার্জিলিং জেলার সিঞ্চল বনাঞ্চলে কালো হরিণের দেখা মিলেছিল। তার পরে কেটে গিয়েছে ১৬ বছর। বৃহস্পতিবার সকালে ডাউহিলের পাইন বনে আচমকা ‘কালো হরিণ-চোখ’-এর দেখা মেলে। কালো চিতা প্রায় অধিকাংশ বনাঞ্চলে দেখা গেলেও কালো হরিণ বিরল।

কালো চিতাবাঘ যেমন জিনগত তারতম্যের জেরে ঘটে। হরিণের ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়। কার্শিয়াং সংরক্ষিত বনাঞ্চল না-হলেও টেরিটোরিয়াল। গত কয়েক বছর ধরে বনকর্মীদের আপ্রাণ চেষ্টায় কার্শিয়াং বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে। এমনকী, বুনো শুয়োর, হরিণ, বন মুরগি, হাতি, চিতাবাঘ, বাইসনের অবাধ বিচরণস্থল হয়ে উঠেছে। গত দু’তিন বছর ধরেই কার্শিয়াংয়ের বনাঞ্চলে ঘোরাফেরা করছে একটি কালো চিতাবাঘ। দেখেশুনে বনকর্মীদের অনুমান, কার্শিয়াং বনাঞ্চলে অঢেল খাবার মিলছে বলে অন্যত্র যাওয়ার চেষ্টা করছে না ওই ব্ল্যাক প্যান্থার। হরিণের ক্ষেত্রেও খাবারের অভাব নেই। কার্শিয়াং বনাঞ্চলে হরিণও রয়েছে যথেষ্ট।

তাঁদের বক্তব্য, সিঙ্গালিলা, সিঞ্চল, মহানন্দার মতো জীববৈচিত্রে সমৃদ্ধ বনাঞ্চল থাকার পরেও কার্শিয়াংয়ে এমন কালো হরিণের দেখা মেলা সৌভাগ্যের বিষয়। ডিএফও অবশ্য বলেন, ‘এটা বিরল ঘটনা। অবশ্যই জিনগত তারতম্যের কারণে হরিণটির রং এমন কালো। এ দিন সকালে ফোটোগ্রাফির সময়ে ডাউহিলের জঙ্গলে কালো হরিণটির দেখা পাই। কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করার পরে বুঝতে পারি, হরিণটি ডাউহিল এবং লাগোয়া বাগোরা এলাকাতেই। ঘোরাঘুরি করে।’
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
কালো হরিণটির খবর প্রকাশিত হওয়ার পরে প্রাণীটির অবাধ বিচরণে যাতে কোনওরকম সমস্যা তৈরি না-হয়, সেই জন্য এ দিন দুপুর থেকেই ওই এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে কার্শিয়াং বনবিভাগ। একই সঙ্গে হরিণটির গতিবিধির দিকেও নজর রাখা হচ্ছে যাতে এটি বনকর্মীদের চোখের আড়ালে চলে যেতে না-পারে। একই সঙ্গে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বাগোরা এলাকাতেও।










