নিজস্ব সংবাদদাতাঃ হুগলীঃ হুগলীর শ্রীরামপুর স্টেশন সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী আরএমএস মাঠে (গান্ধী ময়দানে) এক যুবতীর পেটে কাঁচি ঢুকিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠলো তারই পরিচিত এক যুবকের বিরুদ্ধে। আক্রান্ত যুবতীকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে তড়িঘড়ি শ্রীরামপুর ওয়ালস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গণধোলাইয়ের পর অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত যুবক রিষড়ার চম্পা রোড এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে আরএমএস মাঠের গ্যালারিতে বসে কথা বলছিলেন ওই যুবক ও যুবতী। হঠাৎই তাঁদের মধ্যে বচসা শুরু হয় এবং আচমকা যুবতী চিৎকার করে ওঠেন। চিৎকার শুনে আশেপাশের ব্যবসায়ী ও পথচারীরা ছুটে যান। তাঁরা দেখতে পান, যুবতীর পেটে কাঁচি ঢোকানো রয়েছে, রক্তে ভিজে যাচ্ছে মাটি। স্থানীয় বাসিন্দারা তড়িঘড়ি গিয়ে যুবকটিকে আটকানোর চেষ্টা করেন। বাধা দিতে গিয়ে অপর এক ব্যক্তিও আক্রান্ত হন। এরপরই স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত যুবককে ধরে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে শ্রীরামপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন তাঁর দাবি, আক্রান্ত যুবতী তাঁর স্ত্রী এবং তাঁরা একসঙ্গে বসে কথা বলছিলেন। তবে কী কারণে এই আক্রমণ, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এদিকে প্রতিদিনের অসামাজিক কাজকর্ম ও নেশার ঠেক নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। নিয়মিত এমন গোলমালে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন তাঁরা। স্থানীয় বাসিন্দা সমীর সাহা বলেন, “গত দশ বছর ধরে পুরসভাকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। মাঠের গ্যালারিটি খেলা দেখার জন্য করা হয়েছিল, কিন্তু এখানে কোনও খেলা হয় না। গ্যালারির আড়ালে নিয়মিত নেশার ঠেক ও অশালীন কার্যকলাপ চলে, যা সাধারণ মানুষ ও প্রবীণদের চলাচলের অযোগ্য করে তুলেছে। তিন ধাপের এই গ্যালারি ভেঙে শুধু এক লাইনের চেয়ার বসিয়ে দিলে এই ধরনের অপরাধমূলক ঘটনা অনেকাংশে কমবে।”
Sponsored Ads
Display Your Ads Here









